অসৎ উদ্দেশ্যে ধর্ষণ মামলার আসামিকে জামিন দেন কামরুন্নাহার: আপিল বিভাগ|329510|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ নভেম্বর, ২০২১ ১৪:৪১
অসৎ উদ্দেশ্যে ধর্ষণ মামলার আসামিকে জামিন দেন কামরুন্নাহার: আপিল বিভাগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

অসৎ উদ্দেশ্যে ধর্ষণ মামলার আসামিকে জামিন দেন কামরুন্নাহার: আপিল বিভাগ

ঢাকার সাবেক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার অসৎ উদ্দেশ্যে ধর্ষণ মামলার আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গত ২২ নভেম্বর এ রায় দেন। বুধবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ছয় পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

সর্বোচ্চ আদালত আরও বলেছেন, কামরুন্নাহার কোনো ধরনের ফৌজদারি বিচারকার্য পরিচালনার জন্য উপযুক্ত (ফিট) নন।

আপিল বেঞ্চ বলেছে, ‘আমরা নথি পর্যালোচনা করে দেখেছি, মোছা. কামরুন্নাহার অসৎ উদ্দেশ্যে জামিন মঞ্জুর করেছেন।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ধর্ষণ মামলায় স্থগিতাদেশ থাকার পরও গত ২২ নভেম্বর আসলাম শিকদারকে জামিন দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর সাবেক বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার।

রায়ে বলা হয়, তিনি কোনো ধরনের ফৌজদারি বিচারকার্য পরিচালনার জন্য উপযুক্ত (ফিট) নন। তাই সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী তার বিচারিক ক্ষমতা সিজ করা হলো। তিনি দেশের কোনো আদালতে ফৌজদারি বিষয় পরিচালনা করতে পারবেন না।

স্থগিতাদেশ থাকার পরও হাতিরঝিল থানার ২০১৮ সালের এক ধর্ষণের মামলায় আসলাম শিকদার নামের এক আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন বিচারক কামরুন্নাহার। কোন এখতিয়ার বা ক্ষমতাবলে ওই আসামিকে তিনি জামিন দিয়েছিলেন, সে ব্যাখ্যাও জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে।

ওই মামলার রায়ে গত বছরের ১৪ অক্টোবর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক সামছুন্নাহার আসামি আসলাম শিকদারকে খালাস দেন। সে রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্ট আপিলও করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এদিকে বনানী রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলায় গত ১১ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর তৎকালীন বিচারক মোসা. কামরুন্নাহার ৫ আসামিকে খালাস দেন।

রায় ঘোষণার সময় তিনি ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর মামলা গ্রহণ না করতে পুলিশকে নির্দেশনা দেন। এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ায় চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ওই দিনই তাকে ট্রাইব্যুনাল থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন... সাগর-রুনি হত্যা মামলা: ৮৩তম বার সময় পেলেন তদন্ত কর্মকর্তা