শিশু যৌন নির্যাতনের শাস্তি কমিয়ে দেওয়ায় ভারতে তীব্র ক্ষোভ|329558|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ নভেম্বর, ২০২১ ১৯:০৮
শিশু যৌন নির্যাতনের শাস্তি কমিয়ে দেওয়ায় ভারতে তীব্র ক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক

শিশু যৌন নির্যাতনের শাস্তি কমিয়ে দেওয়ায় ভারতে তীব্র ক্ষোভ

শিশুদের সঙ্গে ওরাল সেক্সের অপরাধ কম গুরুতর। এমনই পর্যবেক্ষণ দিয়ে সবাইকে অবাক করে দিল ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাই কোর্ট। শুধু তাই নয়, যেই মামলার প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ, সেই মামলার অপরাধীর সাজাও কমিয়ে দিয়েছে উচ্চ আদালত।

২০১৬ সালে সনু কুশওয়াহা নামক এক ব্যক্তি ২০ টাকার বিনিময়ে ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে শিশুর সঙ্গে ওরাল সেক্স করে এবং বিষয়টি গোপন রাখার জন্য তাকে মেরে ফেলার ভয়ও দেখায়। এই অপরাধের জন্য ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে তার ১০ বছরের সাজা হয়। তবে অপরাধী উচ্চ আদালতে আপিল করলে আদালত সেই সাজার সময়সীমা কমিয়ে ৭ বছর করে দেয়।

গত সপ্তাহে এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারক অনিল কুমার ঝায়ের সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। তিনি এই মামলার প্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষণ দেন যে শিশুর সঙ্গে ওরাল সেক্স ‘কম গুরুতর’ অপরাধ।

এর আগে বিশেষ দায়রা আদালত এই অপরাধের জন্য সনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সনু উচ্চ আদালতে আবেদন জানান।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা এবং ৫০৬ ধারা এবং পকসো আইনের ৪ নম্বর ধারার অধীনে মামলা রুজু হয়েছিল সনুর বিরুদ্ধে। আইনে এই অপরাধের শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড।

কিন্তু উচ্চ আদালতের বক্তব্য, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা এবং ৫০৬ ধারায় দোষী নয় সনু। বরং সে পকসো আইনের ৪ নম্বর ধারায় দোষী। এর ফলে ১০ বছরের বদলে ৭ বছরের সাজা এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে বলা হয় দোষী সনুকে।

এলাহাবাদ উচ্চ আদালতের সিঙ্গল বেঞ্চের এই পর্যবেক্ষণে ভারতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই রায়ের সমালোচনা করে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।

অনেকে উল্লেখ করেন যে, গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট ১২ বছর বয়সী এক মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থেকে এক ব্যক্তিকে খালাস করে দেওয়া মুম্বাই উচ্চ আদালতের রায় বাতিল করে দেয়। মুম্বাই উচ্চ আদালত যুক্তি দেখায় যে, মেয়েটিকে নিপীড়নের সময় তার ত্বকে কোনো স্পর্শ লাগেনি। ওই ব্যক্তি মেয়েটির জামার ওপর দিয়ে তার বুক স্পর্শ করেছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ওই রায় বাতিল করে দিয়ে বলে যে, যৌন নীপিড়নের ক্ষেত্রে ত্বকে স্পর্শ নয় বরং যৌন অভিপ্রায়কেই মূল বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

এক টুইটার ব্যবহারকারী এলাহাবাদের এই রায়কে ‘আপত্তিকর এবং উদ্ভট’ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্য একজন লিখেছেন যে ‘কোন পরিমাণ শাস্তিই সেই ছোট্ট ছেলেটির মানসিক আঘাতকে মুছে ফেলতে পারবে না’। অনেকে অবাক হয়ে বলেছেন, ‘বিচারকের কী হয়েছে?’

সাংসদ মহুয়া মৈত্রও ক্ষোভ প্রকাশ করে টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘উচ্চ আদালত জাগো – পকসো আইন এর অর্থ হল শিশুদেরকে জঘন্য নিপীড়ন থেকে বাঁচানো। একে হালকা করে দেখবেন না’।

ঘটনাটি ২০১৬ সালের ২২ মার্চের। ঝাঁসির বাসিন্দা ওই শিশু। তার মা-বাবার অভিযোগ, তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন দোষী ব্যক্তি। এরপর তিনি শিশুটিকে কাছের একটি মন্দিরে নিয়ে গিয়ে ওরাল সেক্স করতে বাধ্য করেন।