৮ ইউনিয়নে আড়াই কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ|329730|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০২১ ১৭:২১
৮ ইউনিয়নে আড়াই কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ
শেরপুর প্রতিনিধি

৮ ইউনিয়নে আড়াই কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ

শেরপুর জেলার শ্রীবরদীতে গত ২২ নভেম্বর চতুর্থ ধাপে উপজেলার আট ইউনিয়নে নৌকার মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আড়াই কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার একাধিক আ. লীগ নেতা জানিয়েছেন, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট আড়াই কোটি টাকা মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে।

উপজেলার দুজন আ. লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই অভিযোগ তুলেছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটা বড় অংশের দাবি মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে হত্যা মামলার আসামি, রাজাকারের সন্তান, ফ্রিডম পার্টির লোক, অনুপ্রবেশকারী, বিএনপি সমর্থক ও জন বিচ্ছিন্নরা।

তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের মাঠেই নেই শুধু টাকার ওপর ভর করে কজন প্রার্থী পেয়েছেন নৌকা। যাদের শ্রম ঘাম দিয়ে দল চলে এখন তারা বঞ্চিত। বিতর্কিতদের নানা কায়দায় কমিটিতে ইচ্ছামতো রাতারাতি নাম ঢুকিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বানিয়ে মনোনীতদের বৈধতা দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

সিংঙ্গাবরুণা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা রহুল আমিন বলেন, টাকার বিনিময়ে রাজাকার পুত্র, বিএনপি নেতা, ফ্রিডম পার্টির লোকজন এখন নৌকার মালিক। আদর্শ নয় টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। দুই এক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে বার্তা দিয়ে বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নেব।

জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬৮জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তথ্যমতে প্রতি ইউনিয়নেই নৌকা মনোনীত ও দলের বিদ্রোহী মিলে গড়ে অন্তত ছয়জন করে প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়নেই নৌকার প্রার্থীদের দলের বিদ্রোহীরাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে। অবস্থার পরিবর্তন না হলে এখানে নির্বাচনী ফলাফলে আওয়ামী লীগের বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন দেশ রুপান্তরকে জানান, নিরেট আওয়ামী লীগ বাছাই করে নিজ নিজ ইউনিয়ন কমিটি একাধিক নাম পাঠিয়েছে। উপজেলা কমিটি সকল নাম জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। কেন্দ্র মনোনয়ন দিয়েছে। মনোনয়নে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোনো হাত নেই। সুতরাং মনোনয়ন বাণিজ্য এখানে অসম্ভব।

তিনি আরো জানান, প্রার্থীদের বিষয়ে কেন্দ্র খোঁজ নিয়েই যোগ্য, জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপি জামাত এসব গুজব ছড়াচ্ছে। বড় দল মনোনয়ন অনেকেই চেয়েছেন। কারো অভিমান থাকতে পারে তবে বিভাজন নেই। দলের সবাই এখন নির্বাচনী মাঠে।

আগামী ২৯ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যাহার করা যাবে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২৬ ডিসেম্বর হবে ভোটগ্রহণ।