করোনা টিকা নেওয়ার পর অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে মানসিক সমস্যা|329738|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০২১ ১৮:২৬
করোনা টিকা নেওয়ার পর অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে মানসিক সমস্যা
সুমন সিকদার, বরগুনা

করোনা টিকা নেওয়ার পর অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে মানসিক সমস্যা

বরগুনায় করোনা প্রতিষেধক টিকা নেয়ার পর ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাদের শ্বাসকষ্ট হতে দেখা গেছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, করোনা টিকা নেয়ার ফলে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি বরং এটা মানসিক সমস্যা যা একজনের দেখাদেখি অন্যজনেরও হয়ে থাকে।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বরগুনা জিলা স্কুলের টিকা কেন্দ্রে ফাইজারের টিকা দেওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের। বরগুনা সদর হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তৃতীয় দিনের মতো এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিষেধক ফাইজারের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। বরগুনা জিলা স্কুলে সকাল ৮টা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলে নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে টিকা গ্রহণ করেন। বেলা ১টার দিকে পাথরঘাটা হাজী জালাল উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের পাঁচ শিক্ষার্থী টিকা নেয়ার পরে মাথা ঘোরানোর কথা বলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই সময় পাথরঘাটা মাজহার উদ্দীন টেকনিক্যাল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। এ সময় তাদের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীর মধ্যে রিমু, লিজা, কারিমা, কলিলা, মীম, জুই, মারিয়া, ইসলামসহ ১২ জন পাথরঘাটা সরকারি হাজি জালাল উদ্দিন মহিলা কলেজের এইচএসসির শিক্ষার্থী। বাকি চারজন একই উপজেলার মাজহারুদ্দিন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের সমমানের শিক্ষার্থী।

অসুস্থ শিক্ষার্থী মীম ও জুই বলেন, করোনার টিকা নেয়ার পরপরই মাথা ঘুরতে শুরু করে। এরপর বমি বমি ভাব হলেও বমি আসেনি তবে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর কী হয়েছে বলতে পারি না। তবে যখন শ্বাসকষ্ট শুরু হয় প্রতিটি মুহূর্ত মনে হয়েছিল খুবই কষ্টদায়ক। অসম্ভব কষ্ট হচ্ছিল, বারবার মনে হচ্ছিল এই মনে হয় মারা যাব।

পাথরঘাটা মাজহারুদ্দিন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুপুর ১২টার দিকে টিকা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ দৃশ্য না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না। ভয়ে ইউএনও, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন সবাইকে কল দিয়ে কোনো উপায় না পেয়ে এমপি মহোদয়কে কল দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিয়ে আসি। অনেকেরই প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হয়েছিল, অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হাজি জালাল উদ্দিন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার পাল বলেন, মনে হয় শিক্ষার্থীরা ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজন মেয়ে একটু বেশি অসুস্থ, বাকিরা মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠছে।

বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাব উদ্দীন বলেন, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ১৬ শিক্ষার্থী আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আমরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি করোনা টিকার নেয়ার ফলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েনি। এটা একটা মানসিক সমস্যা যা একজনের হলে তার দেখাদেখি আরো অনেকের হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে আমরা মাস হিস্টিরিয়া বলে থাকি।

দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে পরিদর্শন কালে বরগুনার সিভিল সার্জন মারিয়া হাসান বলেন, আমাদের ফাইজারের টিকা ক্যাম্প চলছে গত দুদিন ধরে এসএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থীদের জন্য। গত দুদিনে কোনো সমস্যা হয়নি। আজকে ১৬ জন মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে টিকা দেওয়ার পর। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখলাম ওদের প্রেশার পালস সব ঠিক আছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা মাস সাইকোজেনিক ইলনেস। করোনা টিকা নেয়ার ফলে কোনো সমস্যা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য ডব্লিউএইচও থেকে ইনভেস্টিগেশন টিম আসবে। ইতিমধ্যে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অনেকেই সুস্থ হয়ে গেছে। আশা করছি বাকিরাও খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।