‘ওসিকে পেটানো’ আ. লীগ নেতা ‘তদবির করে’ পুলিশেও চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন!|329740|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০২১ ১৮:৩৮
‘ওসিকে পেটানো’ আ. লীগ নেতা ‘তদবির করে’ পুলিশেও চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন!
বরিশাল প্রতিনিধি

‘ওসিকে পেটানো’ আ. লীগ নেতা ‘তদবির করে’ পুলিশেও চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন!

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃধা মু. আক্তার উজ জামান মিলনের ‘ওসিকে পেটানোর’ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি ডিআইজি’র মাধ্যমে তদবির করে নিজ ইউনিয়নের লোকেদের চাকরি দেয়ার কথাও বলেছেন ওই বক্তব্যে।

বুধবার সন্ধ্যায় রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক উঠান বৈঠকে তার এমন একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গত নির্বাচনে বাবুগঞ্জ থানার সাবেক ওসিকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মিলনের এমন বক্তব্য সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এমনকি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরাও। তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং দলীয় প্রার্থী হওয়ায় ভয়ে তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেননি কেউ।

‘বাবুগঞ্জ দর্পণ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ হওয়া ৪১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ নৌকা প্রতীকের পক্ষে উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মৃধা মু. আক্তার উজ জামান মিলন। তিনি একই ইউনিয়নে এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান সরোয়ার মাহমুদের কাছে পরাজিত হয়েছেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ৭ মিনিট ৭ সেকেন্ডের মাথায় নৌকার প্রার্থী মিলন মৃধাকে বলতে শোনা যায়, ‘তিনি উপজেলার রাজকর এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা আতাহার আলী মৃধার ছেলেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করে বিনা টাকায় চাকরি দিয়েছেন।

তবে, পুলিশ বলছে, কোনো সুপারিশে পুলিশ বাহিনীতে চাকরির সুযোগ নেই। শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই পুলিশে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিয়োগ প্রত্যাশীরা।

অপরদিকে, একই ভিডিওতে গত নির্বাচনে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও করেন মিলন মৃধা। আর এ জন্য বাবুগঞ্জ থানার ওসির চেম্বারে ঢুকে তাকে প্রকাশ্যে মারধর করেছেন বলেও অকপটেই স্বীকার করেছেন তিনি।

ভিডিও’র ১০ মিনিট ৫০ সেকেন্ড থেকে শুরু করে ১৫-১৬ মিনিট পর্যন্ত আক্তার উজ জামান মিলন বলেন, ‘বাবুগঞ্জের সাবেক ওসি মাহাবুব গৌরনদীর জামাই ছিল। সে গত নির্বাচনে সরোয়ার মাহমুদের পক্ষে বিভিন্ন সেন্টারে আমার ভোট কেটেছে। সেন্টারে সেন্টারে গুলি করেছে। আমি বিষয়টি জানতে পেরে ওসি মাহাবুবের চেম্বারে গিয়ে তাকে চার-পাঁচটি কেনু দিছি।

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপনও মঞ্চে বসা ছিলেন। তবে, তিনি এ বিষয়ে কোনো অভিব্যক্তি প্রকাশ করেননি। বরং পাশ থেকে অপর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সাবেক ওসির বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য রাখেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অনডিউটি অবস্থায় প্রকাশ্যে মারধরের এমন বক্তব্য সাধারণ মহলেও আলোচনা তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে মৃধা মু. আক্তার উজ জামান মিলন বলেন, ‘বক্তব্যে আমি পুলিশে চাকরি দেয়ার বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলাম, হতে পারে সেভাবে বোঝাতে পারিনি। আমি বলতে চেয়েছি আমি ছাত্রলীগের সভাপতি থাকতে যারা আমার কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়েছে তাদের কারোর কাছ থেকে আমি একটা টাকাও নিইনি।

ওসিকে মারধরের বক্তব্যটা কতটা সত্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনের সময় ওসি মাহাবুব আমার তিনটি কেন্দ্রে গুলি করেছে। সেই তিনটি কেন্দ্রে আমি বিজয়ী হতাম। ওসি টাকা খেয়ে আমাকে হারিয়ে দিয়ে গেছে। সাবেক ডিআইজি হুমায়ুন ফোন করে আমাকে গালি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছে। বিএমপি’র সাবেক ডিসি রায়হান আমাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনা সত্য নয়। তবে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব নিয়ে আমার লোকজনের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়েছিল।

তাহলে কেন এমন বক্তব্য দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বক্তব্যে মানুষ অনেক কথাই বলে। বক্তব্য আর বাস্তবতা এক না। ভোট পাওয়ার জন্য এটুকু বলতে হয়েছে। নির্বাচনের শেষ সময়ে আপনি এসব নিয়ে নিউজ করে আমার ক্ষতি করবেন না।