‘হলে থাকলে গালি খেতেই হবে’ ইবিতে ছাত্রলীগের শাসানি|329753|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০২১ ১৯:৪৯
‘হলে থাকলে গালি খেতেই হবে’ ইবিতে ছাত্রলীগের শাসানি
ইবি প্রতিনিধি

‘হলে থাকলে গালি খেতেই হবে’ ইবিতে ছাত্রলীগের শাসানি

ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের সিনিয়র দুই আবাসিক শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন হলের জুনিয়র দুই শিক্ষার্থীকে শাসিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আবদুল্লাহ আল সাবা হিমু এবং ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হোসেন রানা। তারা শাখা ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল সোহাগের অনুসারী।

ভুক্তভোগীরা হলেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ফয়সাল আহমেদ ও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তামজিদ হায়দার জিৎ। তারা উভয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও ফজলে রাব্বি গ্রুপের অনুসারী।

একাধিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ফয়সাল ও জিৎ সাদ্দাম হোসেন হল সংলগ্ন এলাকায় ব্যাডমিন্টন খেলছিলেন। এ সময় হিমু কয়েকজনকে সেখানে খেলতে পাঠান। পাঁচ ম্যাচ খেলার পর ফয়সাল ও জিৎ তাদের চলে যেতে বলেন। এরপর সেদিন রাতেই বঙ্গবন্ধু হলে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে ব্যাচ ডে উদ্‌যাপনের বিষয়ে মিটিং হয়। সেখানে প্রতি হল ও বিভাগ থেকে পাঁচজন করে প্রতিনিধিত্ব করেন। মিটিংয়ে বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থীরা কেন সাদ্দাম হোসেন হলে খেলতে আসবে এ নিয়ে কথা তোলেন জিৎ। এতে সিনিয়র-জুনিয়রদের মাঝে কথা-কাটাকাটি হয়।

পরে শুক্রবার দুপুর দুইটার দিকে হিমু ওই দুই জুনিয়রকে শেখ রাসেল হলের সামনে ডাকেন। এ সময় হিমু ও রানা তাদের ‘হলে থাকলে গালি খেতেই হবে’ বলেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এ ছাড়া তাদের গালিগালাজ করে হল থেকে নেমে যেতে বলেন।

জানা গেছে, এরপর প্রথম বর্ষের ওই দুই শিক্ষার্থী হলে চলে এসে বিষয়টি সিনিয়রদের জানান। ফয়সাল ও জিৎ অতিরিক্ত ক্ষিপ্ত হওয়ায় তাদের কক্ষে আটকে রাখেন সাদ্দাম হোসেন হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা। এরপর হলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অনাকাঙ্ক্ষিত গোলযোগ ঠেকাতে ছাত্রলীগ কর্মী হিমেল ও শিমুল হল গেট আটকিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। ফয়সাল ও জিৎ জামাকাপড় নিয়ে হল থেকে নেমে যান। এ সময় তার বন্ধুরা তাদের আটকান।

আরও জানা গেছে, পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফয়সাল ও জিৎ এর বন্ধুরা হলের সামনে রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হতে থাকে। সংবদ্ধ হয়ে হিমুকে মারতে উদ্যত হলে ছাত্রলীগ কর্মী হিমেল ও শিমুল তাদের আটকান। এ সময় জিৎ ও ফয়সালের বন্ধুরা হলের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। পরে ছাত্রলীগ নেতা বিপুল হোসেন খান ও অনিক সাদ্দাম হোসেন হলের সামনে আসলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হিমু। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে খেলতে পাঠাইনি। তাদের গালিগালাজও করিনি। হল থেকে নেমেও যেতে বলিনি। ওই দুজনের আচরণ খারাপ ছিল। তাই তাদের ডেকে কথা বলেছি।’