‘মৃত হাতিটির চোখে পানি ছিল’|329762|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০২১ ২১:১২
‘মৃত হাতিটির চোখে পানি ছিল’
রিপন দে, মৌলভীবাজার

‘মৃত হাতিটির চোখে পানি ছিল’

শেরপুরের পানিহাতায় মারা যাওয়া বন্য হাতিটির চোখে পানি দেখতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার শাহানুল করিম চপল।

শুক্রবার তিনি এ বিষয়ে এক ফেইসবুক পোস্টে বলেন, মৃত হাতিটির চোখে পানি ছিল। ঢাকায় ফিরে এসেই অফিসের ব্যস্ততায় ছবিগুলো দেখার সময় পাইনি, আজ লক্ষ্য করে দেখলাম মৃত হাতিটির চোখে পানিও ছিল।

তিনি লিখেছেন, মৃত্যুর সময় মানুষের নির্মমতায় সে কেঁদেছিল আর প্রচণ্ড চিৎকার করে স্রষ্টার কাছে জানিয়েছিল তার প্রতিবাদ। হয়তো তার শেষ প্রশ্ন ছিল, ‘আপনি যাদেরকে শ্রেষ্ঠ বলেছেন, তারা কি আসলেই শ্রেষ্ঠ’? তারা যদি শ্রেষ্ঠ হয় তাহলে কীভাবে এই নিকৃষ্ট কর্ম করে? ক্ষুধা যদি অপরাধ হয়, তাহলে কেন আপনি ক্ষুধা দিয়েছিলেন? আপনার পৃথিবীতে আপনার বিরোধিতাকারীদেরও তো আপনি খাবার থেকে বঞ্চিত করেন না, তাহলে কেন খাবার অপরাধে আমাকে এভাবে বিদ্যুতের শক দিয়ে হত্যা করা হলো?

চপল ফেইসবুক পোস্টে বলেন, হাতিকে বনের নির্মাতা বলা হয়। হাতি জঙ্গল থেকে বিভিন্ন রকমের ফল খায় আর সেই সব ফলের বীজ হাতির মলের মাধ্যমে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে পরে, আর এভাবেই সৃষ্টি হয় নতুন বনের। খেয়াল করে দেখবেন যে আমরা যেসব ফল খেয়ে বীজ ফেলে দিই, সেসব বীজে সাধারণত চারা হয় না, কিন্তু হাতির মলের মাধ্যমে যেসব বীজ মাটিতে পরে তাতে সহজেই চারা গজায়। এ জন্য বনের অন্য সব প্রাণীরা হাতিকে তাদের বন্ধু ভাবে এবং বিশেষ সমীহ করে।

তিনি বলেন, হাতিকে বলা হয় বনের রক্ষাকারী। কারণ হাতি না থাকলে বহু আগেই বন ধ্বংস হয়ে যেত। হাতির ভয়ে দখলকারীরা বন দখল করতে সাহস পায় না। আর দখল করলেও হাতি সেসব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়; আর এ কারণেই হাতি হত্যা। আর নিজেদের দায় এড়াতে এবং হত্যাকারীদের রক্ষা করতে বনবিভাগ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেয় যে হাতি অতিরিক্ত ধান খেয়ে পেটে গ্যাস হয়ে মারা গিয়েছে।

হাতি শেষ হলে বনও শেষ হয়ে যাবে তাই, বন রক্ষা করতে আমাদের প্রয়োজনেই হাতিকে রক্ষা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহের শুক্রবার ভোরের দিকে শেরপুরের সীমান্ত অঞ্চল নালিতাবাড়ীর রামচন্দ্র কোড়া ইউনিয়নের মায়াগাছি-পানিহাতায় ধান খেত থেকে হাতির মৃতদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগ।

অতিরিক্ত ধান খেয়ে শেরপুরের পানিহাতায় বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে বন বিভাগের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে হাতিটিকে হত্যা করা হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করা বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য হিসেবে ফটোগ্রাফার শাহানুল করিম চপল সেখানে গিয়ে মৃত হাতিটির ছবিও তুলেছেন।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল এর বন সংরক্ষক মোল্লাহ রেজাউল করিম শনিবার তার ফেসবুক পেজে ময়নাতদন্তের বরাত দিয়ে জানান, ‘Over  eating  জনিত অসুস্থতা’ ওই হাতির মৃত্যুর কারণ।

তবে তার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. মনিরুল এইচ খান ও আলোকচিত্রী শাহানুল করিম চপল। তারা দুজনই দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈদ্যুতিক ফাঁদে ফেলে হাতিটিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া মৃত হাতিটি পুরুষ।

শাহানুল করিম চপল এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শেরপুরে মৃত হাতির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে শুনলাম। সেখানে বলা হয়েছে, হাতিটি অতিরিক্ত ধান খেয়ে পেটে গ্যাস হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। আর হাতিটি মেয়ে হাতি! অবাক হলাম এই রিপোর্ট দেখে!’