বিআরটিসি বাসে শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়া’ ১ ডিসেম্বর থেকে|329849|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০
বিআরটিসি বাসে শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়া’ ১ ডিসেম্বর থেকে

বিআরটিসি বাসে শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়া’ ১ ডিসেম্বর থেকে

গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে সপ্তাহব্যাপী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে ‘হাফ ভাড়ার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বেসরকারি অর্থাৎ ব্যক্তি মালিকানায় চলাচলকারী বাসগুলোতে ‘হাফ ভাড়ার’ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি সরকারসহ পরিবহনের অংশীজনরা। তবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শিক্ষার্থীদের এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

এদিকে রাজধানীতে বিআরটিসি বাসের সংখ্যা যাত্রীর তুলনায় নগণ্য। ঢাকায় অধিকাংশ গণপরিবহনই চলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। ফলে বেসরকারি বাসেও একই নিয়ম চালু না হলে শিক্ষার্থীদর খুব একটা উপকার হবে না। পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, বেসরকারি বাসে ‘হাফ ভাড়া’ দেওয়ার সুযোগ নেই। তাদের পক্ষে কম ভাড়া নেওয়া সম্ভব নয়।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং পরিবহন মালিকদের বৈঠকে বিষয়টির সুরাহা হয়নি। ‘হাফ ভাড়ার’ বিনিময়ে পরিবহন মালিকরা প্রণোদনা দাবি করেছেন বলে সেদিন জানিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়া’র বিষয়ে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে (বনানী) বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক বসবেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আইনগতভাবে ‘হাফ ভাড়ার’ বিষয়টির কোনো ভিত্তি না থাকলেও ঢাকার গণপরিবহনে এটি একটি চিরায়ত প্রথা। যদিও বাস মালিকরা সেই প্রথা মানতে চান না। বাসের বাইরে বা ভেতরে লিখে রাখেন ‘হাফ পাস নেই’। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপন আকারে ‘হাফ ভাড়ার’ বিষয়টি প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার বিআরটিসি বাসে ‘হাফ ভাড়া’র ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেসরকারি মালিকানাধীন পরিবহন কোম্পানি পরিচালিত বাস-মিনিবাসে শিক্ষার্থীদের জন্য “হাফ পাস” চালুর বিষয়টি আলোচনার জন্য আজ শনিবার সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা হবে। আমরা আশা করি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংবেদনশীল থেকে বেসরকারি পরিবহনের মালিকরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন।’

ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ানোর পর পরিবহন মালিকদের চাপে সরকার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২৭ শতাংশ বাড়ায়। এরপর থেকেই বাসে অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। গত এক সপ্তাহ ধরে বিচ্ছিন্নভাবে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ করে আসছিলেন তারা। এরই মধ্যে গত বুধবার রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একটি ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হওয়ার পর সেই আন্দোলন বেগ পায়। সেখানে সেøাগান ওঠে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার।

২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনেও ‘হাফ ভাড়ার’ দাবিটি ছিল। এখন সেই দাবিটি নতুন করে আসার পর তাতে রাজনৈতিকদের অনেকে এমনকি ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতাও তাতে সমর্থন দিয়েছেন। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সম্মেলনে সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়ার’ দাবি নাকচ করেন।

ঢাকা সিটি কলেজ শিক্ষার্থী মো. তানজির রহমান (সিএসই বিভাগ) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যে দাবি দিয়েছিল, তার কোনো অংশই এখানে আদায় হয়নি। এর মধ্যে দিয়ে সরকারের ইচ্ছেই শুধু নয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব হয়েছে। সরকার ঘোষিত ভাড়ার তালিকার চেয়েও বেশি আদায় করা হচ্ছে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নোমান বলেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাড়া নিয়ে বাস মালিকরা আপত্তি জানিয়েছেন এর আগেও। শুধু বিআরটিসি বাসে হাফ ভাড়া আদায় কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা বাসে উঠবে এবং নামবে, সে সময় অন্তত “হাফ ভাড়া” নিতে হবে। প্রতিটি বাসেই হাফ ভাড়া নিতে হবে।’

আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থী সুজন মোল্লা বলেন, ‘আমরা আবারও রাস্তায় নামব। আমাদের দাবি আদায় করে নেব।’ ইডেন কলেজর শিক্ষার্থী নুরে জান্নাত বলেন, ‘হাফ ভাড়া শিক্ষার্থীদের অধিকার, এটা শুধু দাবি নয়। আমাদের শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বা সমস্যা হয়তো সরকার বাস মালিকদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি বা সরকার মালিকদের পক্ষে কাজ করছে। সামান্য কয়টা বিআরটিসি বাস দিয়ে এটা কখনোই সমাধান হওয়ার নয়।’

বিআরটিসির বাসে শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়া’ ১ ডিসেম্বর থেকে : শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সারা দেশে বিআরটিসির বাসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শর্তসাপেক্ষে ‘হাফ ভাড়া’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আসছে ১ ডিসেম্বর থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে গতকাল জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকার জনগণের সরকার, জনঘনিষ্ঠ এবং যৌক্তিক কোনো দাবিতে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শিক্ষার্থীরা হাফ ভাড়ায় বিআরটিসি বাসে যাতায়াত করতে পারবে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘বাসে অর্ধেক ভাড়া দিতে হলে ছাত্রছাত্রীদের অবশ্যই নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের “বৈধ” পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে, সেখানে ছবিও থাকতে হবে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিআরটিসির বাসে চলাচলে এ সুবিধা পাবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির দিনে এ কনসেশন প্রযোজ্য হবে না। শিগগিরই এ বিষয়ে বিআরটিসি প্রজ্ঞাপন জারি করবে।’

সুরাহা ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক : শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়া’র দাবি নিয়ে বাস মালিকদের সঙ্গে বিআরটিএর বৈঠক গত বৃহস্পতিবার কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। বিআরটিএ অডিটরিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় ওই বৈঠক শেষ হয়। এরপর সড়ক পরিবহন সচিব মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি নিয়ে সরকার আন্তরিক। তবে পরিবহন মালিকরা কমাতে রাজি নন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়া কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিতে। আজ পরিবহন মালিকদের অন্য একটি বৈঠক ছিল। এজন্য তাদের সব প্রতিনিধি আসতে পারেননি। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, নিজেদের মধ্যে বসে একটি প্রস্তাব দেওয়ার জন্য পরিবহন মালিক সমিতির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সচিব বলেন, ভাড়ার বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। সরকার যদি নির্দিষ্ট একটি হার উল্লেখ করে বলে দেয়, বেসরকারি মালিকদের সেটা মানতে হবে। তাহলে তারা হয়তো বাস চালানো বন্ধ করে দিতে পারেন। তখন আরেক জনভোগান্তি হবে। এজন্য আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চান তারা।

তিনি জানান, সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসিতে শিক্ষার্থীদের ভ্রমণের সময় ভাড়া ছাড় দেওয়া হবে। তবে কত ছাড় দেওয়া হবে, তা শুক্রবার জানিয়ে দেবেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অন্যদিকে বেসরকারি পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি বলেন, মালিকরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের পক্ষে কম নেওয়া সম্ভব নয়। তবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় তাদের কয়েক দিন সময় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসার অনুরোধ জানিয়েছে। বাস মালিকরা হাফ ভাড়ার বিনিময়ে প্রণোদনা দাবি করেন বলে জানান সচিব।

গত ১৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার হাফ বাড়ার দাবিতে রাস্তায় নামেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর থেকে রাজধানীতে চলাচলরত বাসগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নিচ্ছে না। যা নিয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। অথচ এর আগে সবসময় বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। শনিবারের মধ্যে হাফ পাসের ব্যবস্থা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের জন্য বাসে হাফ পাসের ব্যবস্থার দাবিতে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে বেশ কয়েকটি বাস আটকে রাখা হয়। এ সময় ওই এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সুরাহা করবেন বলে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের দিকে নিয়ে যান। পরে আটকে রাখা বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

হাফ ভাড়ার দাবিতে ছাত্রদের সড়ক অবরোধ, বাস ভাঙচুর : গত ২০ নভেম্বর গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে ঢাকা কলেজে এবং ধানমণ্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে মিরপুর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের ইউনিফর্ম পরা মিছিলকারীরা ইটপাটকেল ছুড়ে চারটি বাসের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে তেজগাঁওয়ে বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেটে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। তাদের দাবি বাসে হাফ ভাড়া কার্যকর করতে হবে।

‘হাফ ভাড়া দিতে চাওয়ায় ধর্ষণের হুমকি’ বকশীবাজারে অবরোধ : গত ২১ নভেম্বর বাসে ‘হাফ ভাড়া’ দিতে চাওয়ায় এক কলেজছাত্রীকে ‘ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগ এনে পুরান ঢাকার বকশীবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে কয়েকশ শিক্ষার্থী।

গত রবিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ পাস (অর্ধেক ভাড়া) চালুর দাবি জানান তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শনিবার ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে বদরুন্নেসা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের এক ছাত্রী অর্ধেক ভাড়া দিতে চাইলে তাকে ‘ধর্ষণের হুমকি দেয়’ বাসচালকের সহকারী। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, অনেক বাস ছাত্রী দেখলে দরজা বন্ধ করে রাখে। হাফ ভাড়া দিতে চাইলে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। ওইদিন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চাঁনখারপুল থেকে বকশীবাজার এবং বকশীবাজার, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও বুয়েট অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে সেøাগান দেন। এ সময় তাদের হাতে ‘হাফ ভাড়া দেওয়ায় ধর্ষণের হুমকি, লজ্জিত বাংলা’, ‘আমরা নারী, আমরা শক্তি, আমরাই প্রতিবাদী’, ‘স্টপ ভায়োলেন্স’, ‘হাফ পাস আমাদের অধিকার’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

হাফ ভাড়ার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ : গত ২৩ নভেম্বর গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন জারি করার দাবিতে ঢাকা কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ ও ধানম-ি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা হয়। ছাত্রলীগ এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচির শেষপর্যায়ে দুই দফায় এ হামলা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হামলার আগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে রাস্তার পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে তর্ক শুরু করেন। এরপর কথাকাটাকাটির মধ্যেই লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। কিছু শিক্ষার্থী এ হামলার শিকার হন।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, প্রথম দফায় হামলার পর শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে গিয়ে জড়ো হলে সেখানে আরেক দফা হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ হামলার সময় রাস্তায় স্কুল-কলেজের পোশাক পরা সব শিক্ষার্থীকেই মারধর করা হয়। ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। এছাড়া হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের অন্য কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।