ভাগনের বিয়েতে দেয়া টাকা গুনতে ৮ জনের সময় লাগল ৩ ঘণ্টা|329963|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২১ ২১:০৯
ভাগনের বিয়েতে দেয়া টাকা গুনতে ৮ জনের সময় লাগল ৩ ঘণ্টা
অনলাইন ডেস্ক

ভাগনের বিয়েতে দেয়া টাকা গুনতে ৮ জনের সময় লাগল ৩ ঘণ্টা

বিয়েতে উপহার উপঢৌকন দেয়ার রীতি আছে। তবে এবার একটি বিয়ে বাড়িতে আসা উপহার নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ভাগনের বিয়েতে দুটো টাকাভর্তি ঝুড়ি নিয়ে এসে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এক মামা। ভাগনের বিয়েতে দেয়া ঝুড়ির টাকা গুনতে ৮ জনের সময় লেগেছে পুরো ৩ ঘণ্টা।

ভারতের রাজস্থানের নাগাউর জেলার এমন ঘটনা ঘটেছে। এই উপহার দেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়ভাবে এমন উপহার দেয়ার রীতি চালু আছে রাজস্থানে। এই উপহারের রীতিকে ‘মায়রা’ বলা হয়।

জানা গেছে, মায়রা উৎসবের জন্য কৃষক পরিবারটি গত আড়াই বছর ধরেই টাকা জমাচ্ছিল। গত রবিবার রাতে বিশাল আকারের দুই ঝুড়ি ভরে সেই টাকা নিয়ে বিয়ের আসরে হাজির হন তিন মামা। ঝুড়ির সমস্ত টাকাই ছিল ১০ টাকার নোট। মোট টাকার পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এই টাকা গুনতে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। মায়রা দানের এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

আরো জানা গেছে, নাগাউর জেলার দেশবাল গ্রামের বাসিন্দা সিপু দেবী। এদিন বিয়ে ছিল সিপু দেবীর ছেলে হিম্মতরামের। হিম্মতের বিয়েতে সিপু দেবীকে চমকে দেওয়া মায়রা দান করেছেন তার তিন ভাই ডোগানার নিবাসী রামনিবাস জাট, কানারাম জাট এবং শোতানরাম জাট।

উল্লেখ্য, মায়রা নিয়ে রাজস্থানে একটি প্রচলিত কাহিনি রয়েছে। সেটা মুঘল শাসনকালের কথা। বাদশার জন্য কর সংগ্রহ করে দিল্লির দরবারে জমা দেওয়ার কাজ করত ধর্মরাম জাট ও গোপালরাম জাট নামের দুই ভাই। বলা হয়, একবার তারা যখন কর সংগ্রহ করে দিল্লি যাচ্ছিলেন, তখন রাস্তায় এক মহিলার সঙ্গে দেখা হয় তাদের। মহিলা কাঁদতে কাঁদতে জানান, তার কোনো ভাই নেই। ফলে তার সন্তানের বিয়েতে মায়রা ভরারও কেউ নেই। এ কথা শুনে ধর্মরাম ও গোপালরাম কর সংগ্রহের সব টাকা ওই মহিলাকে দান করেন। যদিও এই উদারতার জন্য ধর্মরাম জাট এবং গোপালরাম জাটকে বাদশাহ কোনো শাস্তি দেননি বলেই শোনা যায়।