নিভে গেল বাতি|330655|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০
নিভে গেল বাতি
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিভে গেল বাতি

স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, নজরুল গবেষক, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পর্যন্ত বাংলাদেশের বন্ধুর পথ পরিক্রমার অগ্নিসাক্ষী, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় তার মৃত্যু হয়। ওই হাসপাতালের ডিউটি অফিসার ডা. অভিজিৎ অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। তার ছেলে বর্ষণ ইসলামও পরে দেশ রূপান্তরকে বাবার মৃত্যুর খবর জানান।

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে তার অবদান দেশ ও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ তার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারাল। আর তিনি হারালেন একজন অভিভাবককে।’ প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এই প্রত্যক্ষ সাক্ষী যেসব ইতিহাস গ্রন্থিত করেছেন, তা বাংলা সাহিত্যের জন্য অমূল্য সম্পদ। নজরুল গবেষণায় ড. মো. রফিকুল ইসলামের অবদান অনন্যসাধারণ।’

এর আগে রফিকুল ইসলামকে যেদিন এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেদিন বর্ষণ ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন, গত ৭ অক্টোবর পেটের ব্যথা নিয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হন তার বাবা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ফুসফুসে পানি ধরা পড়ে তার। তখন থেকে তিনি সেখানে বক্ষব্যাধি (রেসপিরেটরি মেডিসিন) বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেনের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা রফিকুল ইসলামকে ভারতে নিয়ে যেতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। তাই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক এবং নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক। সে সঙ্গে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। গত শতকের ষাটের দশকে তাকে বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে প্রথম গ্রন্থ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাসের প্রথম গ্রন্থটিসহ প্রায় ৩০টি বই লেখা এবং সম্পাদনা করেছেন তিনি।

জীবদ্দশায় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম একুশে পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

এ ছাড়া এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকেও ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। ২০১৮ সালে সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক ঘোষণা করে।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি বর্তমান চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়, মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয় ও হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা করেন।