চার মাস ধরে নিখোঁজ কলেজছাত্র ছেলের পথ চেয়ে মা|330701|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৫:০২
চার মাস ধরে নিখোঁজ কলেজছাত্র ছেলের পথ চেয়ে মা
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি


চার মাস ধরে নিখোঁজ কলেজছাত্র ছেলের পথ চেয়ে মা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাড়ে চার মাস ধরে নিখোঁজ রনির পথ চেয়ে বসে আছেন তার মা।

রনি উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের ডৌহাতলী বড়চালা গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে। তিনি উপজেলার বাঁশতৈল খলিলুর রহমান কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই বিকেলে বন্ধুদের কাছে যাওয়ার কথা বলে রনি বাড়ি থেকে বের হন। ওই দিন রাত আনুমানিক ২টার দিকে রনির মুঠোফোনে তার মা রেহেনা বেগম ফোন দিলে সাব্বির নামে রনির এক বন্ধু তা রিসিভ করেন।

কয়েক বার ওই নম্বরে ফোন দিয়ে রনিকে চাইলেও অপর প্রান্ত থেকে বলেন, কাক্কি আমি রনি না সাব্বির। পরের দিন সকালে রনির মা সাব্বিরের বাড়িতে গিয়ে রনি কোথায় জানতে চাইলে সাব্বির বলে, আমি জানি না। রনিকে ফোন দিলে তুমি রিসিভ করো কেন? পরে গ্রামের লোকজনের উপস্থিতিতে রনির নম্বরে ফোন দিলে সাব্বিরের মুঠোফোন বেজে উঠে। এরপর সকলেই ধারণা করেন দুর্বৃত্তরা রনিকে গুম করে রনির নম্বর সাব্বিরের মোবাইল ফোনে ডাইভার্ড করেছেন।

এরপর থেকে রনি নিখোঁজ রয়েছে। রনি বাড়ি ফিরে না আসায় মা রেহেনা বেগম ১৭ জুলাই মির্জাপুর থানায়  জিডি করেন (নম্বর ৬৩৪)। ওই জিডিমূলে ৭ আগস্ট একটি মামলা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক সুরুজ্জামান এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে রনির তিন বন্ধু বাঁশতৈল ইউনিয়নের বাঁশতৈল গ্রামের হাসান মিয়ার ছেলে জামান (১৯), তরফপুর ইউনিয়নের ডৌহাতলী বড়চালা গ্রামের মতিয়ার চৌকিদারের ছেলে সাব্বির (১৯) ও একই গ্রামের ছোরহাব আলীর ছেলে শাকিল মিয়াকে (১৯) গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়।

পরে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে আবার জেলহাজতে পাঠান। তবে পুলিশ তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছেন। ওই তিনজনই বর্তমানে জামিনে আছেন। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছেন বলে থানা পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে সাড়ে চার মাসেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে তার মা রেহেনা বেগম দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তার কান্না এখনো থামছে না। ছেলের পথ চেয়ে মা এখন দিগ্ববিদিক ছোটাছুটি করে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

বাঁতৈল খলিলুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফায়জুল হক বলেন, রনির ক্লাস রোল নম্বর ছিল ৪৯৬। এইচএসসি পরীক্ষার পরম পূরণের আগেই সে নিখোঁজ হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ দুলাল আকন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছিল সেই তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। দ্রুততম সময়েই তদন্ত কাজ শেষ করে রনিকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করেছে না কোনো গোপন স্থানে আটকিয়ে রেখেছে তা উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।