পীরগঞ্জে নদ-নদীতে ফাঁদ বসিয়ে বক শিকার!|330707|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৫:৩৫
পীরগঞ্জে নদ-নদীতে ফাঁদ বসিয়ে বক শিকার!
এম এ রহিম, (পীরগঞ্জ) রংপুর সংবাদদাতা

পীরগঞ্জে নদ-নদীতে ফাঁদ বসিয়ে বক শিকার!

রংপুর পীরগঞ্জ উপজেলার গ্রাম পল্লীর ডোবা ও খাল বিলে ফাঁদ পেতে দীর্ঘদিন ধরে বকসহ বিভিন্ন  প্রজাতির পাখি শিকার করে আসছে শিকারি চক্র।

ফাঁদে প্রতিদিন ধরা পড়ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য দুর্লভ বক ও  পাখি। উপজেলার চৈত্রকোল, ভেন্ডবাড়ি, চতরা, পাঁচগাছি, শানেরহাট, টুকুরিয়া, কাবিলপুর, চতরা, চৈত্রকোল, বড়দরগাহ্, কুমেদপুর, বড় আলমপুর, রায়পুর এবং মিঠিপুর  ইউনিয়নে অসংখ্য ডোবা ও বিল রয়েছে।

এসব বিলে অতিথি পাখিসহ সব প্রজাতির পাখির আগমন ঘটে শীত মৌসুমে। সারা বছরই দেখা যায় বক।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বক পাখি ধরতে কলা ও বেতের পাতা দিয়ে ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। বাঁশের চিকন শলার মাধ্যমে একজন মানুষের উচ্চতার সমান উঁচু করে কূপের মতো তৈরি করে। এটি খাল বিলের পানির নিকটে স্থাপন করা হয়। এই ফাঁদে মধ্যে একজন  শিকারি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। উপরে পোষা একটি বকের পায়ে সুতা বেঁধে রাখা হয়। ক্ষুধার্ত  ও উড়ন্ত বক মাছ শিকারের জন্য পানিতে বসে থাকে।

শিকারি তার ফাঁদের বক টিকে ঠোকা দিলে, উড়িয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা এবং চেঁচামেচি করে। আশপাশের বক পাখি বিপদে পড়া পাখিটিকে উদ্ধারের জন্য তার কাছে গিয়ে বসে। এ সময় ফাঁদের ভেতর থাকা শিকারি পাখিটিকে কৌশলে হাত দিয়ে আটকায়।

ফাঁদে ধরা পড়া এক জোড়া সাদা বক ৩’শ টাকা দরে বিক্রি করে শিকারিরা।

এলাকাবাসী জানায়, প্রত্যন্ত পল্লিগ্রামের ডোবা ও বিলে থেকে বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শীতের মৌসুমে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের বিচরণ বেড়ে যায়।

বিল ও নদনদী গুলোতে বক, জল হাঁস, জল পিঁপি, ডাহুক ও মাছরাঙ্গাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আগমন ঘটে।

এ বিষয়ে উপজেলা বন অফিসার শাহজাহান মিয়া বলেন, পাখির আবাসস্থল ও বিচরণ ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসছে। কীটনাশকের ব্যবহার এবং অবাধে পাখি শিকারের কারণে দিন দিন পাখির সংখ্যা ও প্রজাতি কমে যাচ্ছে। পাখি রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে।