মানুষের অত্যাচারে মারা গেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কৃষ্ণচূড়া গাছ|330730|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৯:০৯
মানুষের অত্যাচারে মারা গেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কৃষ্ণচূড়া গাছ
ইমানুল সোহান, ইবি

মানুষের অত্যাচারে মারা গেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কৃষ্ণচূড়া গাছ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মানেই ছিল রক্ত রঙিন কৃষ্ণচূড়া গাছ। তবে অযত্ন-অবহেলা, ডাল কাটা, বিভিন্ন পোস্টার আর বিলবোর্ডের পেরেকের ভারে মারা গেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ঐতিহাসিক কৃষ্ণচূড়া গাছটি।

প্রকৃতি পালাবদলের সঙ্গে রূপ বদলাত এ গাছ। হেমন্তের এ সময়ে সবুজ পাতায় ভরে ওঠার কথা ছিল গাছটির। আর গ্রীষ্মে গাছটি লাল রঙে রাঙিয়ে দিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার দুই মাস আগে গাছটি মারা গেছে। এ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গাছটির নিয়মিত পরিচর্যা হতো না। প্রধান ফটকের সামনে হওয়ায় অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন পেরেক দিয়ে বসানো হতো। সেই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কখনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া কয়েক দফায় গাছটির ডাল কাটা হয়েছিল। এসব কারণে গাছটি মারা গেছে। যে গাছটির সঙ্গে আমাদের হাজারো স্মৃতি বহমান সেই গাছটির এই অবস্থা দেখে আমরা ব্যথিত-মর্মাহত। সেই স্থানে আবারও পরিকল্পিতভাবে কৃষ্ণচূড়া গাছ চাই আমরা।

জানা গেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিলবোর্ডের পেরেক, বৈদ্যুতিক লাইনের তারের জন্য কয়েক দফায় ডাল কাটা, করোনাকালীন সময়ে গাছটির পরিচর্যা না করার কারণে গাছটি মারা গেছে। গাছটি মারা যাওয়ার দুই মাস পার হলেও কর্তৃপক্ষ নতুন করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গাছটির এমন অবস্থা শিক্ষার্থীরা মেনে নিতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গাছটির পূর্বের ছবির সঙ্গে বর্তমান সময়ের চিত্র দিয়ে মনঃকষ্ট প্রকাশ করছেন। এ ছাড়া একই স্থানে নতুন করে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর দাবি জানাচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আদনান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সৌন্দর্যবর্ধক কৃষ্ণচূড়া গাছটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন এবং অবহেলায় ছিল। গাছের জন্য প্রয়োজনীয় সার দেওয়া তো দূরের কথা; বরং এর মূলে একটু পানি পর্যন্ত দেওয়া হতো না। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার জন্যই ঐতিহ্যবাহী এই গাছটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা রোজদার আলী রুপম দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাকালে গাছটির বেহাল দশা দেখে আমি ব্যক্তি উদ্যোগে গাছটির পরিচর্যা শুরু করি। তবু গাছটিকে বাঁচানো গেল না। গাছটি মারা যাওয়ায় প্রধান ফটকটিকে নিষ্প্রাণ লাগে। প্রায় ২০ বছর ধরে গাছটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফঢকটিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে রাখে।

অভিযোগের বিষয়ে এস্টেট অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান টিপু সুলতান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি তখন এ দায়িত্বে ছিলাম না। পূর্বের প্রশাসনের সময় এমনটি ঘটেছে। তবে এখনো গাছ লাগানোর কোনো পরিকল্পনা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে অতিসত্বর গাছ লাগানো হবে। তবে কৃষ্ণচূড়া গাছ নাও হতে পারে, বিকল্প গাছও লাগানো হতে পারে।