যশোরে যুবলীগের সভায় ছুরিকাঘাতে আহত ১০|330746|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ২২:০৩
যশোরে যুবলীগের সভায় ছুরিকাঘাতে আহত ১০
যশোর প্রতিনিধি

যশোরে যুবলীগের সভায় ছুরিকাঘাতে আহত ১০

যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভাকে ঘিরে ছুরিকাঘাতে ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে শহরের ঝালাইপট্টি ও টাউন হল ময়দানে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা উপলক্ষে এদিন শহরে আসেন। এ ঘটনার পর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে পুলিশের দাবি, যুবলীগের সভাকে ঘিরে নয়, বরং ছিনতাইকারীদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতরা যুবলীগের কর্মী কি-না তাও জানে না পুলিশ।

আহতরা হলেন- খাইরুল ইসলাম (২০), আকিবুল ইসলাম (১৭), রাব্বি (১৮), শামীম হোসেন (২২), রাসেল (১৭), জয় আহম্মেদ (১৭), গোষ্ঠ গোপাল (২০), সোহাগ সরদার (২১), হ্যাপী (১৭) ও টিটো (১৮)। এদের মধ্যে পাঁচজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এম আব্দুর রশিদ বলেন, খায়রুল ও আকিবুলের শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাদের দুজনের অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৮ বছর পর বুধবার কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় সিটিটিএস মিলনায়তনে যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে জেলা ও ৮ উপজেলার সকল নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। বর্ধিত সভায় যোগ দিতে আসা কেন্দ্রীয় নেতাদের অভিবাদন জানাতে দলীয় কার্যালয় ও সভাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয় জেলা কমিটির পদ প্রত্যাশীদের অনুসারীরা। এ সময় স্লোগান দেয়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। আহতরা দুই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েল ও আনোয়ার হোসেন বিপুলের সমর্থক।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত রাসেল বলেন, সকালে যুবলীগের বর্ধিত সভায় মিছিল নিয়ে শহরের চিত্রার মোড়ে আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে আসছিলাম। মিছিল শেষে দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে ঝালাইপট্টি পৌঁছালে হ্যাপি তার লোকজন নিয়ে আমাকে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে আসি।

আহত হ্যাপি জানায়, রাসেলকে তিনি ছুরিকাঘাত করেননি। বরং যুবলীগের মিছিল শেষে রাসেল লোকজন নিয়ে আমাকে ছুরি মেরে আহত করে। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

যশোর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুপন কুমার সরকার জানান, দুপুরে ছিনতাইকারী হ্যাপি তার ব্যক্তিগত পূর্ব আক্রোশে শামীমকে ছুরিকাঘাত করে। এরই জের ধরে শামীমের লোকজন জজ কোর্ট মোড়ে টিটু, হ্যাপি, খাইরুলদের ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনার সঙ্গে যুবলীগের বর্ধিত সভার কোনো সম্পর্ক নাই। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই কথা বলেন যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলামও।

এদিকে এদিন সিসিটিএস মিলনায়তনে জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেল উদ্দিন। জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আল সাইফুল সোহাগ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আনোয়ার হোসেন, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, জেলা সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৯ জুলাই যশোর জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। এতে মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীকে সভাপতি ও জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি হয়।