কুয়েট হল প্রাধ্যক্ষের মৃত্যু: ‘তদন্ত কমিটির অপারগতা’|330899|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৬:৪৪
কুয়েট হল প্রাধ্যক্ষের মৃত্যু: ‘তদন্ত কমিটির অপারগতা’
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

কুয়েট হল প্রাধ্যক্ষের মৃত্যু: ‘তদন্ত কমিটির অপারগতা’

ছাত্রলীগের নেতারা অবরুদ্ধ করে রাখার পর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কুয়েট প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে ওই কমিটির দুজন সদস্য তদন্ত করতে অপারগতা জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি সিন্ডিকেটের সভা ডাকা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সাজ্জাদ হোসেন।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ কমিটির সভাপতি ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম। এ ছাড়া দুজন সদস্য হলেন- সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান ও ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. কল্যান কুমার হালদার।

তারা আরো জানান, তবে এদের মধ্যে থেকে অধ্যাপক ড. কল্যান কুমার হালদার লিখিতভাবে ও ড. মো. আরিফুল ইসলাম মৌখিকভাবে তদন্ত করতে অপারগতা জানিয়েছেন।

কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তদন্ত কমিটির দুজন সদস্যের অপারগতা জানিয়েছেন। নতুন করে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি সিন্ডিকেটের সভা ডাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় এ সিন্ডিকেটের মিটিং হবে। সেখান থেকে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুতে কুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আজ প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষক কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন। সভা শেষে তারা বিশ্ববিদালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। এর আগে বুধবার থেকে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ৩ টার দিকে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান কুয়েট শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেন। তিনি কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ও লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ছিলেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি কুয়েটের লালন শাহ হলে ছাত্র আবাসিক হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য-ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে, সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান প্যানেলের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ওই প্যানেলের সদস্যরা, হলের প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেনকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন, তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচন করার জন্য। তারই ধারাবাহিকতায়, ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একটি ক্যাডার গ্রুপ ক্যাম্পাসের রাস্তা হতে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করে। পরবর্তীতে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষ ( তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) এ প্রবেশ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধঘণ্টা ওই শিক্ষকের সঙ্গে রুদ্ধদার বৈঠক করে। এতে তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন ও অসুস্থ হয়ে যান।

পরবর্তীতে, শিক্ষক ড. সেলিম হোসেন দুপুরে খাবারের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস নিকটস্থ বাসায় যাওয়ার পর ২টা ৩০ মিনিটে তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। পরে, দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।