জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক কারখানার পয়োনালা: বাধা দেওয়ায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ|330915|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৮:৩৮
জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক কারখানার পয়োনালা: বাধা দেওয়ায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ
সাভার প্রতিনিধি

জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক কারখানার পয়োনালা: বাধা দেওয়ায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ

সাভারে ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক কারখানার পয়োনালা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে হাজী মোতালেব হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জমির তিন মালিকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলা করে পুলিশ দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়নের গৌরিপুর এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার হাজী মোতালেব নামে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি কয়েক দিন ধরেই জোরপূর্বক তার কয়েকটি কারখানার পয়োনিষ্কাশন লাইনের পানি অন্যের জমির ওপর দিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে মোতালেব এবং তার ছেলে সোহেল ও মাসুদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রতিবেশী কাশেম আলী, আকবর হোসেন ও মজিবুরের জমির ওপর দিয়ে পাইপ ফেলে ড্রেন নির্মাণের চেষ্টা করে। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন বাধা দিলে পুলিশ এসে ভুক্তভোগীদের পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা বলেন, অন্যের জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক পয়োনিষ্কাশন লাইন নেয়ার সময় বাধা প্রদান করায় উল্টো জমির মালিকের স্বজনদের থানায় ডেকে নিয়ে চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

বুধবার ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার অভিযোগ করেন, আমাদের সঙ্গে অন্য একটি জমি নিয়ে মোতালেবের প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলছে। সম্প্রতি তারা আমাদের জমির পাশ দিয়ে থাকা খাসজমিসহ ৬ শতাংশ রেকর্ড করায়। আমরা মিলের মাধ্যমে তাদের জমি বুঝিয়ে দিতে চাইলেও তারা জোরপূর্বক আমাদের বসতবাড়ির মাঝখান দিয়ে তাদের ভাড়া দেওয়া কয়েকটি কারখানার পয়োনিষ্কাশন লাইন নেয়ার জন্য সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালায়। মোতালেব এবং তার ছেলে সোহেল ও মাসুদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়।

তিনি বলেন, তারা কারখানা থেকে শতাধিক শ্রমিক ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে জোরপূর্বক আমাদের জমির ওপর দিয়ে পয়োনিষ্কাশন লাইন নিতে আসলে আমরা বাধা দিই এবং পুলিশে খবর দিই। কিন্তু পুলিশ এসে তাদের পক্ষ নিয়ে উল্টো আমাদের লোকজনকে ধরে নিয়ে গেছে।

অপর ভুক্তভোগী জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কারখানার পয়োনিষ্কাশন লাইনের পানি আমাদের জমিতে ফেলায় এখানে কোনো ফসল হচ্ছে না। বর্তমানে আমাদের ছয় বিঘা জমিতে কোনো ফসল না হওয়ায় এবং জমিগুলোতে জমে থাকা নোংরা পানির কারণে নানা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে আমাদের।

থানা পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মোতালেবের ছেলে সোহেল এবং মাসুদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেলিনা আক্তারদের দেয়াল ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের বাধা দেওয়া হলে সোহেল বলতে থাকে, জোর করেই লাইন নির্মাণ করব, পারলে আটকা। এ কথা বলেই সোহেল এবং তার ছোট ভাই মাসুদ কারখানার ভেতর থেকে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রধারী লোকজনকে ডেকে এনে হামলার নির্দেশ দেন।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত সোহেল বলেন, আমাদের জমির ওপর দিয়ে আমরা প্রায় ২০টি বাড়ি এবং কয়েকটি কারখানার পয়োনিষ্কাশন লাইনের পানি ইউনিয়ন পরিষদের ড্রেনের সঙ্গে সংযোগ দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলা করে সেলিনা ও তার স্বজনরা। এ সময় আমি কারখানা থেকে লোক ডেকে আনি প্রতিহত করার জন্য। খালি মার খাব তা তো হয় না। তারা আমাকে দা দিয়ে কোপ দিয়েছে, আমি হাত দিয়ে ঠেকানোয় তিনটি আঙুল কেটে গেছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদিপ কুমার গোপ বলেন, কোনো জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কাউকে আটক করা হয়নি। আমরা মারামারি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।