পুলিশের হুমকি-ধমকি আমরা ভয় পাই না: নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ২ ছাত্রী|330922|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৯:১১
পুলিশের হুমকি-ধমকি আমরা ভয় পাই না: নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ২ ছাত্রী
অনলাইন ডেস্ক

পুলিশের হুমকি-ধমকি আমরা ভয় পাই না: নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ২ ছাত্রী

এইচএসসি পরীক্ষার কারণে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সীমিত কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কিও হয়। এ সময় দেশ রূপান্তর সহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি সরাসরি লাইভ করে। লাইভে তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তাদের সেই ভিডিওগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের ওপর শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে গেলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় দুই শিক্ষার্থী বাধা উপক্রম করে ৩০ মিনিট সেখানে অবস্থান করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা সংবাদমাধ্যমগুলোকে বলেন, আমাদের শরীরে তিতুমীর, মাস্টারদা সূর্য সেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের রক্ত। আমরা যোদ্ধার জাতি। যোদ্ধারা কখনো ভয় পায় না। আমরা কেন ভয় পাব, ভয় পেলে তো আর রাস্তায় নামতাম না। যত বাধাবিপত্তি ও হুমকি আসুক, আমরা ১১ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত হুমকি-ধমকি দিয়ে আমাদের আন্দোলন থেকে বিরত করা যাবে না। আমরা পুলিশের এ ধরনের হুমকি-ধমকিতে ভয় পাই না।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা বলেন, রাষ্ট্রকে আইন করে অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করতে হবে। শিক্ষার্থীরা শুধু ঢাকার মধ্যে নয়, ঢাকার বাইরেও রয়েছে। আবার বলা হচ্ছে, সকাল সাত থেকে রাত আটটা পর্যন্ত অর্ধেক ভাড়া নেওয়া হবে। এ সময়ের পরে কি আমরা ছাত্র থেকে কামলা হয়ে যাই। রাষ্ট্র কেন শর্ত দেবে অর্ধেক ভাড়ার জন্য? বিনা শর্তে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া নিতে হবে।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা বলেন, যত দিন এইচএসসি পরীক্ষা চলবে, সেই কদিন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করব, যাতে কারও চলাফেরায় বাধার সৃষ্টি না হয়। যেদিন পরীক্ষা থাকবে না, সেদিন আমরা রাস্তায় অবস্থান করব, মিছিল করব।

আন্দোলন করতে গিয়ে জনদুর্ভোগ হলে সে বিষয়ে তারা তাদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে বলেন, স্বাভাবিক সময় তো অ্যাম্বুলেন্স যানজটে পড়ে থাকে। আমাদের আন্দোলনের সময় আমরা অ্যাম্বুলেন্স, শিক্ষার্থীদের গাড়ির জন্য জরুরি লেন করে চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমাদের কারণে অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ে রাস্তায় কোনো রোগী মারা যায়নি। অথচ স্বাভাবিক সময় যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ে রোগী মারা যাওয়া ঘটনা আমরা প্রায়ই খবরে দেখি।

আন্দোলনে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তারা বলেন, ছাত্রদের বাসে আগুন দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। কিন্তু বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অধিকার কি বাসের চালক ও তার সহকারীর (হেলপার) রয়েছে? কোনো শিক্ষার্থী বাসে আগুন দেয়নি, বহিরাগতরা দিয়েছে।