আওয়ামী লীগ সরকার ফ্যাসিবাদী, স্বীকৃতি দিয়েছে আমেরিকা: হাফিজ|330925|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৯:৩৭
আওয়ামী লীগ সরকার ফ্যাসিবাদী, স্বীকৃতি দিয়েছে আমেরিকা: হাফিজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সরকার ফ্যাসিবাদী, স্বীকৃতি দিয়েছে আমেরিকা: হাফিজ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার যে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী তার স্বীকৃতি দিয়েছে আমেরিকা। তারা তাদের দেশে অনুষ্ঠিতব্য গণতান্ত্রিক সম্মেলনে বিশ্বের এক শ দশ দেশকে আমন্ত্রণ জানালেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি।’ 

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমেরিকা গণতান্ত্রিক সম্মেলনে দাওয়াত না দেওয়ার বিষয়ে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, আমেরিকা দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে ডেকেছে। তাহলে প্রশ্ন আসে প্রতিবেশী ভারতকে যে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তাদের দেশে কি দুর্বল গণতন্ত্র? ভারত নাকি আমাদের স্বামী, আমরা তাদের স্ত্রী। আপনাদের এমন কথায় আপনাদের স্বামী দেবতা তো ক্ষিপ্ত হয়ে যাবে। এ ধরনের কথা বলবেন না। সুতরাং স্বৈরতন্ত্র চালিয়েছেন কিছুদিন চলবে বেশিদিন চলবে না।’

হাফিজ বলেন, ‘৭১ সালে কেমন ছিল বাংলাদেশ ? এই ঢাকা শহরে তখন কি এভাবে চলাফেরা করতে পারতেন? তখন প্রতিনিয়ত দুঃশ্চিন্তা করতে হতো কখন যেন খুন হয়ে যাই, গুম হয়ে যাই। মানুষ পালিয়ে বেড়াতেন। আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে আজও আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত। কথা বলার স্বাধীনতা নাই। সবসময়ে ভয়ে থাকি কখন গুম হয়ে যাই। তাহলে কোথায় সে স্বাধীনতা, যার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশ কি স্বাধীন হয়েছিল আওয়ামী লীগের লুটপাটের জন্য? আমেরিকা, মালয়েশিয়া, কানাডায় বেগম পাড়া বানানোর জন্য? মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকে পালিয়ে ভারতে চলে গিয়েছিলেন আর এখন পালানোর জন্য আমেরিকা, মালয়েশিয়া, কানাডায় বাড়ি বানিয়েছে। পরিবার-পরিজন আগে পাঠিয়ে দিয়েছে কোনোরকম বর্ডার পার হয়ে মাসির দেশে যেতে পারলে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হতে পারবে। তবে জনগণ সে সুযোগ নাও দিতে পারে।’

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা কখনো ভাবেন নাই এদেশের জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। তেমনি এই নিশি রাতে সরকারের বিরুদ্ধে এদেশের জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। পাকিস্তানিরা যেমন টিকতে পারে নাই তেমনি এই নিশি রাতের সরকারও টিকতে পারবে না।’ 

মুক্তিযোদ্ধা দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাজী আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, জাতীয়বাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।