শুরুতে বড় পতন দিন শেষে উল্লম্ফন|330959|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০
শুরুতে বড় পতন দিন শেষে উল্লম্ফন
নিজস্ব প্রতিবেদক

শুরুতে বড় পতন দিন শেষে উল্লম্ফন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির জেরে গতকাল লেনদেনের শুরুতে বড় পতন দেখা দেয় পুঁজিবাজারে। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ গণনা হবে ক্রয়মূল্যে, বন্ডে বিনিয়োগ ব্যাংকের এক্সপোজারের বাইরে রাখা হবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির শীর্ষ এক কর্মকর্তার বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয় মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরদিন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে। তবে লেনদেনের দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় চিত্র। হারানো মূল্যসূচক পুনরুদ্ধার করে দিন শেষে উল্লম্ফনে শেষ হয় লেনদেন। পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতদ্বৈততায় একদিনেই সূচক ও শেয়ারদরের পতন ও উল্লম্ফনের ঘটনা ঘটেছে। 

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এসইসির বৈঠকের ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৪৩ পয়েন্ট বেড়েছিল। আর পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ ক্রয়মূল্যে গণনা, বন্ডে বিনিয়োগ ব্যাংকের এক্সপোজারের বাইরে রাখার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি মর্মে গত বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তা অস্বীকার করার জেরে গতকাল সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হয়েছিল ৮৫ পয়েন্ট পতন দিয়ে। পরের চার মিনিটে পতন বেড়ে ৯০ পয়েন্টে। কিন্তু শেষটা হয়েছে ৮৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি দিয়ে। দিন শেষে ৬৯৩৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে সূচক।

সূচকের এমন নাটকীয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি শ্রেণির কিছু বিনিয়োগকারীর আগ্রাসী শেয়ার ক্রয় বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বাজারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও দরপতন রুখতে বেশ তৎপর ছিলেন। ফলে দিন শেষে সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে।

গত এক বছরে পুঁজিবাজারের যে উত্থান, তাতে উদ্বেগ জানিয়ে কয়েক মাস ধরেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কড়া নজরদারিতে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারের উত্থানে কিছু ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা অতিক্রম করায় জরিমানাও করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ কাটানোর উদ্দেশ্য নিয়ে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এসইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠক শেষে উভয় সংস্থার প্রতিনিধিই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে পরিবর্তনের মানসিকতা নিয়ে বৈঠক হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন। এসইসির একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বাজারের বড় উত্থান এবং এর বিরোধিতা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রধান দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাল্টাপাল্টি অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এদিকে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাল্টাপাল্টি অবস্থান, পুঁজিবাজার পরিস্থিতি ও ব্যাংকের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিষয়ে আগামী ৭ ডিসেম্বর এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংককে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এসইসি চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সাক্ষাতের পরই এমন উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এসইসি চেয়ারম্যান ছাড়াও এনবিআরের চেয়ারম্যান অংশ নেবেন। আশা করা হচ্ছে, পুঁজিবাজারের বিদ্যমান সমস্যার কার্যকর সমাধান আসবে উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক থেকে। গতকালের বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরুতে ২৭৫ শেয়ারের মধ্যে ৫৫টি বাদে বাকি প্রায় সবগুলো দর হারায়। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স লেনদেন শুরুর মাত্র চার মিনিটের মধ্যে ৯০ পয়েন্ট হারায়। এরপর হঠাৎই ঘুরতে শুরু শেয়ারদর, সূচকও দ্রুতই ফিরে পেতে শুরু করে হারানো পয়েন্ট। লেনদেনের প্রথম পৌনে দুই ঘণ্টাতেই সূচক হারানো ৮৯ পয়েন্ট ফিরে পেয়ে আগের দিনের অবস্থানে ফিরে আসে সূচক। সূচকের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারগুলোর দরবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। রেনেটা, স্কয়ার ফার্মা, বিএসআরএম, সামিট পাওয়ার, লাফাজহোলসিম, বেক্সিমকো ফার্মা, পাওয়ার গ্রিড, মবিল যুমনা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, আইডিএলসির মতো শেয়ারের দরবৃদ্ধি সূচকে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

খাতওয়ারি হিসেবে গতকাল বীমা এবং বস্ত্র খাতে ছিল মিশ্রধারা। এর বাইরে অন্যসব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দরই বেড়েছে। তবে সূচকে সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল ওষুধ ও রসায়ন। এ খাতের কারণে সূচক বেড়েছে ২৫ পয়েন্ট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ পয়েন্ট যোগ করে জ্বালানি খাত।

দিনের লেনদেন শেষ হয় ২০৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধি দিয়ে। যেখানে দর হারায় ১১৮টি এবং অপরিবর্তিত থাকে ৪৮টির দর। দিনব্যাপী কেনাবেচা হয়েছে ১ হাজার ২৪৮ কোটি টাকার শেয়ার, যা বুধবারের তুলনায় ১৪২ কোটি টাকা বেশি।