নভেম্বরে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৩১.২৫%|330964|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০
২০২১-২২ অর্থবছরের পাঁচ মাস
নভেম্বরে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৩১.২৫%
নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেম্বরে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৩১.২৫%

প্রবাসী আয়ে পতনের মধ্যেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত রপ্তানি আয়ে বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া মাস নভেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪০৪ কোটি ডলারের বেশি, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ। মূলত তৈরি পোশাকে ভর করে রপ্তানি আয়ে এমন প্রবৃদ্ধি এসেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১৩ শতাংশ বেশি রপ্তানি আয় এসেছে নভেম্বরে। গতকাল রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য জানিয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হলেও সেপ্টেম্বর থেকে ঘুরে দাঁড়ায় পরিস্থিতি। সেপ্টেম্বরে রেকর্ড রপ্তানি আয় প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে সহায়তা করে, যা পরবর্তী দুই মাসেও অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বরের পর অক্টোবরে রপ্তানি আয়ে আরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেশ। ওই মাসে রপ্তানি আয় হয় ৪৭২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি। একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় হয় গত অক্টোবরে।

চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের উল্লম্ফনে বরাবরের মতো প্রধান ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। গতকাল ইপিবির প্রকাশিত পণ্য রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ তথ্যে (সাময়িক) দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে তৈরি পোশাক ছাড়াও হোম টেক্সটাইল, কৃষি প্রক্রিয়াজাত, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, প্রকৌশল পণ্য ও হস্তশিল্প রপ্তানিতেও বড় সাফল্য এসেছে। ফলে সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা দেশীয় মুদ্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১৫ কোটি টাকার সমান। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যে পণ্য রপ্তানি হয়েছে, তা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। গত পাঁচ মাসে যে রপ্তানি আয় এসেছে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৪৭ কোটি ডলার। আর এ সময়ে রপ্তানি আয় এসেছে ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ডলারের পণ্য। 

বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ডলারের পণ্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরের পণ্য আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৪ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। এখন পর্যন্ত রপ্তানি আয়ের যে প্রবণতা তাতে চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হওয়ায় রপ্তানিকারকরা শঙ্কায় রয়েছেন। ইতিমধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত রপ্তানি ক্রয়াদেশে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আরএমজি খাতটিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ শতাংশ। তৈরি পোশাক খাতে বরাবরের মতো নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে বেশি। এ খাতে প্রায় ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ খাতে রপ্তানি হয়েছে ৮৯৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এ সময়ে ওভেন খাতে ১৯ দশমিক ৩২ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আরেক পোশাকসংশ্লিষ্ট খাত হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৬ কোটি ডলার। একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ৪৫ কোটি ৬৮ ডলার আয় হয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

এদিকে রপ্তানি আয়ের উল্লম্ফনেও পিছিয়ে পড়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য। গত পাঁচ মাসে এ খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময় এ খাত থেকে ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার রপ্তানি আয় এসেছে। অবশ্য বৃহত্তর খাত হিসেবে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চা, সবজি, তামাক, ফলমূল, মসলা, শুকনো খাবারসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৫৫ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। অন্যান্য খাতের মধ্যে হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানিতে ২৩ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

এদিকে রপ্তানি আয়ে বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হলেও প্রবাসী আয় গত ছয় মাস ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে। সর্বশেষ চলতি নভেম্বরে যে প্রবাসী আয় এসেছে, তা গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত নভেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। এর আগে ২০২০ সালের মে মাসে ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ ডলার আয় এসেছিল।