হৃদরোগীর দাঁত তোলায় আইএনআর|330976|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০
হৃদরোগীর দাঁত তোলায় আইএনআর
ডা. মো. ফারুক হোসেন

হৃদরোগীর দাঁত তোলায় আইএনআর

আইএনআর বলতে বোঝায় ইন্টারন্যাশনাল নরমালাইজড রেসিও। আইএনআর টেস্ট রক্ত জমাট বাঁধার সময় নির্ণয় করে থাকে।

আইএনআর

আইএনআর-এর মাত্রা যদি ১.৫ থেকে ২.৫ এর মধ্যে থাকে সেক্ষেত্রে নিরাপদ ওরাল সার্জারি করা যায়। তবে দাঁত তোলার ক্ষেত্রে আইএনআর-এর মাত্রা ৩ পর্যন্ত থাকলেও দাঁত তোলা যাবে। সবকিছু রোগীর সার্বিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে থাকে।

আইএনআর স্বাভাবিক আছে কিন্তু রোগীর যদি অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন হয় তাহলে দাঁত তোলার সময় অথবা মুখের ভেতরে সার্জারি করার সময় অবশ্যই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

অনেক সময় রোগীর অক্সিজেন দেওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে।

কেন

হৃদরোগীদের বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি কোয়াগুলেন্ট জাতীয় ওষুধ খেতে হয়। রক্তনালিতে যেন রক্ত জমাট না বাঁধে।

যেমন ক্লপিডগেরল অথবা ক্লপিডগেরল প্লাস এ জাতীয় ওষুধ খাওয়ার সময় কারও যদি  দাঁত তোলার দরকার হয় তবে কিছু নিয়মনীতি অনুসরণ করে আইএনআর টেস্ট করতে হবে।

আইএনআর টেস্টের মাত্রা স্বাভাবিক না থাকলে দাঁত তোলা যাবে না।

গুরুত্ব

আইএনআর টেস্ট রক্ত জমাট বাঁধার সময় পরিমাপ করে। অর্থাৎ কারও রক্ত জমাট বাঁধতে কতক্ষণ সময় প্রয়োজন হয় তা নির্ণয় করা হয়। আইএনআর-এর পরিমাণ বেশি হলে বুঝতে হবে আপনার রক্ত জমাট বাঁধতে সময় বেশি প্রয়োজন হবে। দাঁত তোলা, সার্জারি ছাড়াও আইএনআর বা ইন্টারন্যাশনাল নরমালাইজড রেসিও রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা আছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয়। আইএনআর টেস্ট করা হয় প্রথমবিন টাইমের সঙ্গে কন্ট্রোল টাইমের অনুপাতের মাধ্যমে অর্থাৎটেস্ট করে যে প্রথমবিন টাইম পাওয়া যায় অর্থাৎ পিটি টেস্টের সঙ্গে নরমাল প্রথমবিন টাইমের অনুপাতের মাধ্যমে আইএনআর পরিমাপ করা হয়। 

হার্টের রোগীর দাঁত তোলা

দাঁত তোলার আগে কমপক্ষে তিন দিন অ্যান্টিপ্লাটিলেট জাতীয় ওষুধ খাওয়া বন্ধ রাখতে পারে।

নিরাপদ আইএনআর পাওয়া গেলে তবেই দাঁত তুলতে হবে। তবে যাদের অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন অর্থাৎ এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন রয়েছে তাদের দাঁত তোলার ক্ষেত্রে অথবা সার্জারির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জন এবং ভালো ক্লিনিকে যেতে হবে। হার্টের রোগীর আইএনআর ঠিক না থাকলে দাঁত তোলা বা সার্জারি করা ঠিক নয়। কারণ জীবনের ঝুঁকি থাকবে।

তাই আইএনআর টেস্ট স্বাভাবিক হলে নিয়মনীতি মেনে অবশ্যই দাঁত ও মুখের চিকিৎসা নিতে হবে।