টাকা মেরে খাচ্ছে নেতারা|331143|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০
টাকা মেরে খাচ্ছে নেতারা
মো. আমিনুল ইসলাম, গাজীপুর

টাকা মেরে খাচ্ছে নেতারা

গাজীপুর জেলা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক্সট্রা মোহরারদের (নকলনবিশ) পরিশ্রমের টাকা মেরে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে। তিন মাস অন্তর সমিতিতে নকলনবিশদের জমানো টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব সদস্যদের দেওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ মাস নেতারা কোনো হিসাব দিচ্ছেন না। মাঝেমধ্যে কোনো নকলনবিশ তার টাকার হিসাব চাইলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। তাদের দাবি, নেতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গাজীপুর জেলা ও সাব-রেজিস্ট্রে অফিসে এক্সট্রা মোহরার (নকলনবিশ) হিসেবে আড়াই শতাধিক নারী-পুরুষ কাজ করেন। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে অপেক্ষাকৃত গরিব নারীরা নকলনবিশের কাজ করেন। সকাল ৯টায় অফিসে এসে বেশিরভাগ সময় টেবিলে লেখার কাজেই ব্যস্ত থাকেন তারা। প্রতিদিন দলিল বালাম বইয়ে অবিকলভাবে লেখার বিনিময়ে তারা নির্ধারিত হারে মজুরি পেয়ে থাকেন। একজন নকলনবিশের পক্ষে গড়ে দিনে ২৫-৩০ পৃষ্ঠা লেখা সম্ভব। প্রতি পৃষ্ঠা বাবদ বাংলা দলিলে ২৪ ও ইংরেজি দলিলে ৩৬ টাকা করে পান। মাস শেষে একসঙ্গে তাদের মজুরি পরিশোধ করা হয়।

গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একাধিক নকলনবিশ জানান, তারা সপ্তাহে গড়ে ৪-৫টি নকল পান। প্রতিটি ভলিয়ম কপি নকলের জন্য নকল গ্রহীতার কাছ থেকে নেন ১ হাজার ৩০০ টাকা। এই অর্থের মধ্যে সরকারি ফি বাবদ ৩৫০ টাকা কেটে রাখা হয়। নকলনবিশ পান ৩৬০ টাকা এবং বাকি ৫৯০ টাকা সমিতিতে জমা রাখা হয়। এসব নকলের মধ্যে ইংলিশ টাইপ কপি (ইটিসি) নকলের জন্য ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ থেকে সরকার ৩০০, নকলনবিশ ৩৬০ ও সমিতির তহবিলে যায় ৩৪০ টাকা। আর বাংলা টাইপ কপি (বিটিসি) নকলের জন্য ৮৫০ টাকা নেওয়া হয়। এ থেকে সরকার ২৬০, সমিতির তহবিলে ১৪০ ও রেকর্ড রুমের নকলনবিশরা নকলপ্রতি পান ৪৫০ টাকা। সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও রেকর্ড রুম মিলে গড়ে দিনে ২০০ নকল সরবরাহ করা হয়।

নকলনবিশদের অভিযোগ, সব ধরনের নকল থেকে দলিলপ্রতি অন্তত ৪০০ টাকা নকলনবিশ সমিতির নেতাদের হাতে জমা থাকে। মাসে ২২ দিন কর্মদিবস হিসাবে মাসে সাড়ে ১৭ লাখ টাকার বেশি নেতাদের হাতে জমা হয়। এখন পর্যন্ত এই অর্থ থেকে সমিতির কোনো সদস্য বিপদ-আপদে সহায়তা পাননি। করোনার প্রথম ঢেউয়ে বিপাকে পড়লেও নকলনবিশদের কোনো খোঁজ-খবরই নেননি নেতারা।

সমিতির একাধিক সদস্য জানান, তাদের সমিতি নামকাওয়াস্তে। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিচের সারির কাউকে ডাকা হয় না। হিসাব-নিকাশ চাইলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। মূলত নকলনবিশদের পরিশ্রমের অর্থে সমিতির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজনের পকেট ভারী হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। নকলনবিশ মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুনকে সভাপতি ও মো. ইকবাল হোসেন সুমনকে সাধারণ সম্পাদক করে গত বছরের ২০ আগস্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদ্য বরখাস্তকৃত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম জেলা সদর ও মহাফেজখানা এক্সট্রা মোহরার (নকলনবিশ) কল্যাণ সমিতির ২৭ সদস্যের কার্যকরি কমিটি গঠন করেন। নকলনবিশদের তিন মাস অন্তর হিসাব দেওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ মাস চেয়েও তারা কোনো হিসাব পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে নকলনবিশ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন সুমনের কাছে সমিতির তহবিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো তথ্য দেননি। এমনকি নকলনবিশদের প্রতিদিনের জমা অর্থ কোথায় খরচ হয়, তাও জানাতে রাজি হননি তারা।

গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার মিনতী দাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করে ও এসএমএস পাঠিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।