সুরা ইয়াসিনের ছয় বার্তা|331161|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০
সুরা ইয়াসিনের ছয় বার্তা
মাওলানা আবদুল আজিজ

সুরা ইয়াসিনের ছয় বার্তা

সুরা ইয়াসিন, পবিত্র কোরআনের অন্যতম একটি সুরা। তাফসিরবিদদের মতে সুরা ইয়াসিনে মোট ছয়টি ভাগ রয়েছে। এই ছয় ভাগে ছয়টি বার্তা রয়েছে মানবজাতির জন্য। সেগুলো হলো

অবহেলাকারীদের মনোভাব : সুরাটির সূচনা কোরআন নাজিল এবং তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে। এ সুরার প্রথম আয়াত থেকে ১২ আয়াতে বলা হয়েছে, আরবরা রাসুলের ধারণার সঙ্গে পরিচিত ছিল না। এ কারণে কোরআনে কারিমে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্ব পুরুষদেরও সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফেল।’ সুরা ইয়াসিন : ৬

এ ছাড়া আল্লাহর বাণীর প্রতি অসতর্ক ও অবহেলাকারীদের প্রতি সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। ‘আপনি তাদের সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের পক্ষে দুইই সমান; তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।’ সুরা ইয়াসিন : ৯

ইতিহাসের প্রতিফলন : সুরা ইয়াসিনের ১৩ আয়াত থেকে ৩০ নম্বর আয়াতে অতীত এক জাতির প্রতি তিনজন রাসুলের দাওয়াত এবং তাদের একজন সমর্থকের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে এই কাহিনীটি আকর্ষণীয়। প্রথমত কোনো স্থান বা জাতির কাছে একত্রে তিনজন রাসুল পাঠানো খুবই বিরল। রাসুলদের নাম এখানে উল্লেখ করা হয়নি এবং তাদের বক্তব্যের বিস্তারিতও এখানে আলোচনা করা হয়নি, তথাপি তাদের একজন সমর্থকের বক্তব্যকে এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তাদের কাছে দুইজন রাসুল পাঠিয়েছিলাম, অতঃপর ওরা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তখন আমি তাদের শক্তিশালী করলাম তৃতীয় একজনের মাধ্যমে। তারা সবাই বলল, আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।’ সুরা ইয়াসিন : ১৪

অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এলো। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসুলদের অনুসরণ  করো।’ সুরা ইয়াসিন : ২০

নিজের জাতির প্রতি তার এত ভালোবাসা ছিল যে, তার জাতি যখন তাকে শহীদ করল এবং তিনি যখন জান্নাতে প্রবেশ করলেন, তখনো তিনি তার জাতির হেদায়েতের কথা চিন্তা করছিলেন।

আল্লাহর সৃষ্টি অবলোকন : সুরা ইয়াসিনের পরের ভাগে (৩১ আয়াত থেকে ৪৪ আয়াত পর্যন্ত) পাঠক ও শ্রোতাদের কাছে দাবি করছে, তোমরা যদি ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষাই নিতে না পারো, তবে আল্লাহর এই বিশাল সৃষ্টিজগতের দিকে লক্ষ্য করো। ‘তাদের জন্য একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে।’ সুরা ইয়াসিন : ৩৩

‘তাদের জন্য এক নিদর্শন রাত্রি, আমি তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে থেকে যায়।’ সুরা ইয়াসিন : ৩৭

একগুঁয়ে ও অন্ধ অনুসরণ : আলোচ্য সুরার ৪৫ নম্বর আয়াত থেকে ৪৭ নম্বর আয়াতে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে প্রত্যাখ্যানকারী এবং সৃষ্টিজগতের দিকে লক্ষ্য করতে ব্যর্থ মানুষকে আল্লাহ আহ্বান করছেন। ‘আর যখন তাদের বলা হয়, তোমরা সামনের আজাব ও পেছনের আজাবকে ভয় করো, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়, তখন তারা তা অগ্রাহ্য করে। যখনই তাদের পালনকর্তার নির্দেশাবলি মধ্যে থেকে কোনো নির্দেশ তাদের কাছে আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।’ সুরা ইয়াসিন : ৪৫-৪৬

অবিশ্বাসীদের অবস্থা : সুরা ইয়াসিনের পরবর্তী ভাগে (৪৮ থেকে ৭০ আয়াত) বলা হয়েছে ভবিষ্যতের কথা। কিয়ামতের দিন অবিশ্বাসীদের অবিশ্বাসের শেষ পরিণাম কী হবে, তা বর্ণনা করা হয়েছে এবং তার জন্য মানুষকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। ‘এই সে জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদের দেওয়া হতো। তোমাদের কুফরের কারণে আজ এতে প্রবেশ করো।’ সুরা ইয়াসিন : ৬৩-৬৪

‘আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টিশক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়াতে চাইলে কেমন করে দেখতে পেত!’ সুরা ইয়াসিন : ৬৬

আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি অবাধ্যতা : সুরার প্রথম অংশে আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি অবিশ্বাসীদের অবহেলার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। একইভাবে অন্তরের অপর একটি রোগ সম্পর্কে সুরার ৭১ থেকে ৮৩ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। সেটা হলো অহংকার ও অবাধ্যতা। এটি মানুষকে অবিশ্বাসের দিকে ধাবিত করে এবং এর ফলে সে আল্লাহর কিতাব ও তার সৃষ্টির নিদর্শন থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। ‘মানুষ কী দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতঃপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাগ্বিতন্ডাকারী। সে আমার সম্পর্কে এক অদ্ভুত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে যখন সেগুলো পচে গলে যাবে? বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।’ সুরা ইয়াসিন : ৭৭-৭৯