আন্দোলনের মুখে কুয়েট বন্ধ|331200|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০
আন্দোলনের মুখে কুয়েট বন্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

আন্দোলনের মুখে কুয়েট বন্ধ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্র্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে গতকাল বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষক সেলিমের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের।

এদিকে হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের এ ঘোষণায় বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার পরপরই দুপুর থেকে ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেন তারা। বাস বা ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এছাড়া গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ক্যাম্পাস খোলার কিছুদিনের মধ্যে আবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেক শিক্ষার্থী।

গত মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসের বাসায় শৌচাগারে অচেতন হয়ে পড়ার পর ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রভোস্ট সেলিম হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন বাসায় ফেরার আগে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি অংশ লাঞ্ছিত করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ওই অংশের ছাত্রলীগ নেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। কমিটি গঠনের দুদিন পর গত বৃহস্পতিবার দুই সদস্য এ কমিটিতে থাকতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে কী কারণে এ অপারগতা, তা জানাননি ওই দুই শিক্ষক। অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুর পর একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ হয়। সেখানে তাকে অনুসরণ করে কয়েকজন ছাত্রকে তার কক্ষে যেতে দেখা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে একদল ছাত্র ক্যাম্পাসের রাস্তায় অধ্যাপক সেলিমকে জেরা করেন। পরে তাকে অনুসরণ করে তড়িৎ প্রকৌশল ভবনে তার কক্ষে যান। তারা আধা ঘণ্টার মতো অধ্যাপক সেলিমের সঙ্গে ছিলেন এবং পরে অধ্যাপক সেলিম বের হয়ে বাসার দিকে যান। অধ্যাপক সেলিমের কক্ষে ওই ছাত্ররা তাকে লাঞ্ছিত করে থাকতে পারেন, যা তাকে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় বলে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। অধ্যাপক সেলিমকে গত বুধবার রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রামে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।

অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গতকাল সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বৈঠক শুরু হয়। এর আগে শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়। গতকাল সকাল ১০টার দিকে সিন্ডিকেটের বৈঠক শুরু হওয়ার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনিক ভবনে শুরু হওয়া এ সভায় উপাচার্যসহ সিন্ডিকেট সদস্যরা অংশ নেন। অধ্যাপক সেলিমের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন শুরু করেন সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভা শেষে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানান কুয়েটের ভিসি অধ্যাপক কাজী সাজ্জাত হোসেন।

এরপর কুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান ভূঞা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬তম জরুরি সিন্ডিকেট সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা কারণে আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার বিষয়ে কুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক ড. ইসমাইল সাইফুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন। আর সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে কোনো প্রকার উত্তেজনা তৈরি না হয় সেজন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

হত্যার দাবি শিক্ষক সেলিমের স্ত্রীর : বাসায় ফিরে বলল, ‘ছাত্ররা ধরে নিয়ে গেছে। দায়িত্বই ছেড়ে দেব। আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই। হত্যায় জড়িতদের ফাঁসি চাই। আমার ছয় বছরের মেয়েকে এতিম ও আমাকে স্বামী হারা করল। আমি আমার মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যৎ চাই’ একটানা কথাগুলো বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের স্ত্রী সাবিনা খাতুন রিক্তা।

একটু দম নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সেদিন মুখে হাসি নিয়েই কুয়েট ক্যাম্পাসে বিশ^বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। আর বাসায় ফিরেছিল বিধ্বস্ত হয়ে। চোখ লাল, অনেকটা বিমর্ষ। আজ চারটা দিন মেয়ে (জান্নাতুল ফেরদৌস আনিকা, সাড়ে ৬ বছর) খাওয়াতে পারছি না। মেয়েটি কিছুই খাচ্ছে না। শুধু আবদার করছে বাবা না এলে সে খাবে না। এখন আমি কী করব। আমার সোনাটা চলে গেল, এখন আমি কী নিয়ে থাকব।’

সাবিনা খাতুন রিক্তা জানান, ৩০ নভেম্বর সকালে তার স্বামী হাসি মনে কুয়েটে যান। আর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে বাসায় আসেন। তখন তাকে খুবই বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। অন্যদিন বাসায় এসেই মেয়েকে কোলে তুলে নিতেন। বাবা না এলে মেয়ে কখনো খেত না। ওইদিন মেয়েকে খাইয়ে বিছানা করছিলেন রিক্তা। বাসায় এসেই স্ত্রীকে বললেন ছাত্ররা তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা। দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন বলেও জানিয়েই নিজের কক্ষে চলে যান। তখন তার চোখমুখ খুব খারাপ অবস্থা দেখাচ্ছিল। এরপর তিনি গোসল করতে বাথরুমে ঢোকেন। রিক্তা মেয়েকে জানান বাবার ল্যাব আছে তিনি আবার অফিসে যাবেন। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। কিন্তু একটু পরেই মেয়ে গিয়ে বাথরুমের দরজা ঠেলতে থাকে। দরজা না খোলায় মাকে এসে সে কথা জানায়। তিনি তখন নিজে গিয়ে দরজায় জোরে ধাক্কা দেন কিন্তু ভেতর থেকে লক থাকায় না খুললে তিনি দৌড়ে দোতলায় উঠে তার কলিগদের ডাকেন। তখন আশপাশের অনেকে এসে দরজা ভেঙে দেখেন দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছেন সেলিম। তখন চোখেমুখে পানি দিলে চোখ খোলেন। এরপর তাড়াতাড়ি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রিক্তা বলেন, ‘চিন্তা বাড়লে চিল্লাপাল্লা করি। তখন আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। এরপর বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে বসা অবস্থায় দেখি। কিন্তু চোখ বন্ধ। মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। মুখে পানি ছিটা দিলে চোখ খোলে। কিন্তু কথা বলতে পারেনি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

স্বামী হারানো সাবিনা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘কুয়েট কর্র্তৃপক্ষ এ ঘটনা নিয়ে মামলা না করলে আমি নিজেই বাদী হয়ে মামলা করব। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাইব। আমার মেয়েকে এতিম করা হয়েছে। জড়িতদের ফাঁসি চাই। ক্ষতিপূরণ চাই।’

‘হত্যার’ বিচার চান বাবা : শিক্ষক সেলিম হোসেনের বাবা শুকুর আলী ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারসহ সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে শুকুর আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ছাওয়াল সেলিমকে ওরা নির্যাতন কইরি মারি ফ্যালেচে, আমি বিচার চাই, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই, আপনেরা তদন্ত কল্লিই আসল তথ্য বাড়া আসপিনি’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতি চাই সেলিমের কী অপরাধ ছিল যে ওরা এমন নির্যাতন কইরি মাইরি ফেইল্লি? যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের শাস্তি চাই, বিচার চাই।’

কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘সেলিমের মৃত্যুর পর সাধারণ সভা করে আমরা এ ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে কুয়েট কর্র্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি শিক্ষক সেলিমের নিয়মিত পাওনার বাইরে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অতিরিক্ত ১ কোটি টাকা পরিবারকে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।’

জানা গেছে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি সরকারি চাকরি পাওয়ার পরপরই নতুন কমিটি আসার প্রাক-মুহূর্তে সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ভাগ হয়ে পড়েছে কয়েকটি উপদলে। এর ভেতর একটি প্রভাবশালী উপদল বর্তমান কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সম্প্রতি কুয়েটের লালন শাহ হলে ছাত্র আবাসিক হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য-ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান প্যানেলের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

হঠাৎ হল ছাড়ার সিদ্ধান্তে বিপাকে শিক্ষার্থীরা : হঠাৎ হল ছাড়ার নির্দেশনায় ভোগান্তির শিকার হন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার পরপরই দুপুর থেকে ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেন তারা। বাস বা ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দিনাজপুর পর্যন্ত এখন কীভাবে যাব, সেই চিন্তায় আছি। হঠাৎ হল ছাড়ার সিদ্ধান্তে বিপাকেই পড়েছি। বিশেষ করে আমাদের মেয়েদের সমস্যা একটু বেশি। তবে কর্র্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বাইরে তো কিছু করার থাকে না। আর বিষয়টা যেহেতু পলিটিক্যাল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই আর কোনো বিষয়ে কথা বলতে চাই না।’

গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ক্যাম্পাস খোলার কিছুদিনের মধ্যে আবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেক শিক্ষার্থী। ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিরিয়ারিং চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্র বলেন, ‘হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছি। এখন আর বাড়ি ফিরব না। আমার বন্ধুর মেসে থাকব। সে ঢাকায় চলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যাপক বিড়ম্বনা।’

যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হারুনুর রশীদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীর জন্য এটা চরম ভোগান্তির। ঠাকুরগাঁও সদরের টিকিট পেলে বাড়ি চলে যাব। আর না পেলে কী করব, তা এখনো ভাবিনি।’ একই বিভাগের শিক্ষার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওসমান গণি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘করোনার জন্য অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এতদিন তো পড়ালেখা শেষ হয়ে যেত। ২৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে এসেছিলাম। আবার ভ্যাকেন্ট। আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। পড়াশোনা শেষ করতে কত দিন লাগবে, জানি না। সব মিলিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন : গতকাল বেলা ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নোংরা রাজনীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কুয়েট ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

লিখিত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান বলেন, ‘সেলিম হোসেন স্যারের অকাল মৃত্যুতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা বিশ্বাস করি তার এই শূন্যস্থান কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু একটি মহল তথ্য-প্রমাণ ব্যতিরেকে প্রাণপ্রিয় শিক্ষকের মৃত্যুর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতার যোগসূত্র ঘটিয়ে আমাদের মানসিক ট্রমার মধ্যে ধাবিত করেছে। এটি এক কথায় জঘন্য ও ঘৃণিত কর্মকা-ের শামিল। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র নিন্দা এবং ঘৃণা জ্ঞাপন করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি শিক্ষক সেলিম হোসেনকে মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘সেদিন সেলিম স্যারের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের আপ্যায়িত করেছেন। তার সঙ্গে খারাপ আচরণের প্রশ্নই আসে না।’

কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের প্রধান দাবি তদন্ত ছাড়া কাউকে বহিষ্কার না করা। তদন্ত করা হোক, সেখানে যারা অপরাধী হবে তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে আমরা তা মেনে নেব। আমাদের ওপর যে দোষ চাপানো হচ্ছে তা ঠিক নয়। আমারা স্যারকে কোনোরকম প্রেশার দিইনি। তার আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলাম। স্বাধীনতার বিপক্ষের কিছু স্যার এটা পুঁজি করে আগামী জানুয়ারি মাসে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় আসতে চান। কারণ গত ১০ বছর ধরে তারা ক্ষমতা দখল করতে পারছেন না। সে কারণে তারা চাইছেন যে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে।’

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে গতকাল ঢাকার রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে মানববন্ধন করেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।