মিত্রবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া|331409|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০
মিত্রবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া
এহ্্সান মাহমুদ

মিত্রবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া

৫ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী নিয়ন্ত্রনে নেয় কুষ্টিয়ার জীবননগর ও দর্শনা। যশোরের ঝিকরগাছা এবং যশোর-ঝিনাইদহ সড়কও মিত্রবাহিনীর অধিকারে আসে। যশোর দখলে নিতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। অথচ ঢাকার বাইরে পাকিস্তানিদের বড় ঘাঁটি ছিল যশোর ক্যান্টনমেন্ট। এ দিনেই দেশের উত্তরাঞ্চলে পাকবাহিনী নিয়ন্ত্রণ হারায় রংপুরের পীরগঞ্জ, খানপুর, কাঞ্চনদহ, বোদা, ফুলবাড়ি ও নবাবগঞ্জের। তবে দিনাজপুরের হিলিতে কঠোর যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয় মিত্রবাহিনীকে। এই দিন হিলিতে মিত্রবাহিনীর একটি দল যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও মিত্রবাহিনীর একটি বড় অংশ গাইবান্ধার দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ৫ ডিসেম্বর রাতেই দখলমুক্ত হয়েছিল ফেনী। ফেনী দখলের আগে বেলোনিয়া দখল করেছিল মুক্তিরা। বেলোনিয়ায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় নয় মাসই মুক্তিরা আক্রমণ চালিয়েছিল। তাই বেলোনিয়া মুক্ত হওয়ায় মুক্তিদের মনোবল বেড়ে গিয়েছিল। বেলোনিয়া ও ফেনী দখলের পর বিজয়ী বাহিনী এগিয়ে যায় চট্টগ্রামের দিকে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল যখন রণক্ষেত্রে উত্তপ্ত সময় পার করছে তখনই বিশ^ অভিভাবকরা বাংলাদেশ নিয়ে তাদের স্বার্থরক্ষার কূটনৈতিক লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। তবে ব্যতিক্রম ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। ৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে সোভিয়েত ইউনিয়ন এক প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এই প্রস্তাবে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানে এমন এক ‘রাজনৈতিক নিষ্পত্তি’ প্রয়োজন যার ফলে বর্তমান সংঘর্ষের অবসান নিশ্চিতভাবেই ঘটবে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, পাকবাহিনীর সহিংসতায় পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটছে তা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। একমাত্র পোল্যান্ড এই প্রস্তাব সমর্থন করে। চীন বাদে পরিষদের অন্য সব সদস্য ভোটদানে বিরত থাকে। চীন ভোট দেয় বিপক্ষে। এই সময়ে আরও আটটি দেশের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি এবং সৈন্য প্রত্যাহারের পক্ষে আরও একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। তবে এই প্রস্তাবও মার্কিন প্রস্তাবের মতো হওয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয়বারের মতো ভেটো প্রদান করে।

এই দিনে, অর্থাৎ ৫ ডিসেম্বর ‘দি সানডে টাইমস’-এ প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, ভারত-পাকিস্তান বিরোধে চীন পাকিস্তানের পক্ষ সমর্থন করবে। চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ-এন লাইয়ের বরাতে এই সংবাদ প্রচার করা হয়। ব্রিটিশ সাংবাদিক নেভিল ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হলে উভয় দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ধ্বংসাত্মক ও আক্রমণমূলক কার্যকলাপের ব্যাপারে চীন দৃঢ়ভাবে পাকিস্তানকে সমর্থন করে। শেষ পর্যন্ত ভারত তার ফলাফল ভোগ করবে। এরপর উপমহাদেশে অশান্তি বিরাজ করবে।

এই সময়ে ‘তাস’ মারফত এক বিবৃতিতে সোভিয়েত সরকার উপমহাদেশের যুদ্ধের জন্য পাকিস্তানকে সর্বাংশে দায়ী করে এবং ‘পূর্ব বাংলার জনগণের আইনসংগত অধিকার ও স্বার্থের স্বীকৃতির ভিত্তিতে’ সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য এবং পরিস্থিতির অবনতি রোধকল্পে বিশ্বের সব দেশের প্রতি আহ্বান জানায়।

 (সূত্র: পাকিস্তান ক্রাইসিস ইন লিডারশিপ, মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি, আবদুল মতিন)