এবার নৌকার প্রার্থীর গলায় টাকার মালা|332131|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ২১:০৮
এবার নৌকার প্রার্থীর গলায় টাকার মালা
রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর

এবার নৌকার প্রার্থীর গলায় টাকার মালা

এবার গাজীপুরের শ্রীপুরে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া এক প্রার্থীর গলায় টাকার মালা নিয়ে নেতা কর্মীদের সঙ্গে উল্লাস করতে দেখা গেছে। এই ঘটনার একটি ছবি দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

উপজেলার ৬ নম্বর বরমী ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ৬ নম্বর বরমী ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন গাজীপুর জেলা পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন সরকার। তিনি দরগা চালা গ্রামের গিয়াস উদ্দীন সরকারের ছেলে। এ ইউনিয়নে এক ডজনের বেশি নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র আনোয়ার সরকারকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।

নৌকার মনোনয়ন পেয়ে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে গলায় টাকার মালা পরে উল্লাস করেন তিনি। এর আগে একই ইউনিয়নে এক প্রার্থী টাকার মালা পরে মনোনয়ন দাখিল করতে আসেন। যা নিয়ে সমালোচনার হয় উপজেলাজুড়ে। একদিন পর ফের নৌকার প্রার্থীর এমন একটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মাঝে নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান প্রার্থী বা মেম্বার প্রার্থীদের এমন অশোভন কাণ্ডে ভোটারদের মাঝে টাকা বিলির একটি বার্তা চলে আসছে। আর টাকার হিসাব কষে অনেক সময় মানুষ ভুল বা অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ হয়। টাকার খেলার চর্চা বন্ধ করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চেয়ারম্যানের একাধিক কর্মী সমর্থক জানান, কিছু অতিউৎসাহী কর্মী প্রার্থীকে বিপদে ফেলেন ভালোবাসা ভক্তির নামে। নৌকার মনোনয়ন পাওয়াতে অনেক কর্মী ‘নিশ্চিত চেয়ারম্যান’ মনে করে এমন কাণ্ড ঘটান।

পাশের ইউনিয়নের নৌকার একাধিক প্রার্থী বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের এমন অবিবেচক কর্মকাণ্ড সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। গত দুদিন বরমী ইউনিয়নের দুই প্রার্থীর গলায় টাকার মালা এমন ছবির জন্য নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রার্থী হিসাবে এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর।

এ বিষয়ে বরমী ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, আনন্দ মিছিলের সময় ভক্ত কর্মীরা টাকার মালা পরিয়ে দেয়। আসলে নির্বাচন সামনে রেখে অনেক ভক্ত কর্মীকেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। জেনে বা না জেনেই হোক এটা ভুল হয়েছে। আমাদের আরো সতর্ক ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আল নোমান বলেন, যেকোনো মিছিল শো-ডাউন আচরণ বিধিভঙ্গ করে। এখনো তারা আমাদের কাছে নিশ্চিত প্রার্থী না। যাচাই বাছাই শেষে তারা বৈধ প্রার্থী নিশ্চিত হলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। তবে এটা অন্যায় নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।