আমার ছেলের লাশটা অন্তত খুঁজে দেন: নালায় নিখোঁজ শিশুর বাবা|332136|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ২২:০০
আমার ছেলের লাশটা অন্তত খুঁজে দেন: নালায় নিখোঁজ শিশুর বাবা
চট্টগ্রাম ব্যুরো

আমার ছেলের লাশটা অন্তত খুঁজে দেন: নালায় নিখোঁজ শিশুর বাবা

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ ১২ বছরের কামালের খোঁজ বুধবার বিকেলেও মেলেনি।

কামালের দিনমজুর বাবা মোহাম্মদ কাউসার জানান, তার দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে কামাল সবার ছোট। আহাজারি করে তিনি বলেন, “আমার ছেলের লাশটা অন্তত খুঁজে দেন”।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অনেককে বলেছি এমনকি পুলিশকেও অনুরোধ করেছি কিন্তু কেউ আমার ছেলেকে খুঁজতে এগিয়ে আসেনি। কাউকে না পেয়ে ছেলেকে খোঁজার জন্য আমি নিজেই নালায় নামি”।

সোমবার পাঁচলাইশের ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রাস্তার পাশে খেলতে গিয়ে কামাল নামের ১২ বছর বয়সী ওই শিশুটি নিখোঁজ হয়।

স্থানীয়রা জানান, তাদের পরিবার পাশের বস্তিতে থাকে। সোমবার দুপুরে দুই ছেলে ওই এলাকায় খেলছিল। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তারা রাস্তার পাশের ড্রেনে পড়ে যায়। একজন শেষ পর্যন্ত ড্রেন থেকে উঠে আসতে পারলেও কামাল ড্রেন থেকে বের হতে না পেরে নিখোঁজ হয়।

কামালের সঙ্গে ড্রেনে পড়ে যাওয়া রাকিব জানায়, তারা দুজন সেখানে খেলছিল। সে সময় ড্রেন থেকে কিছু একটা তোলার চেষ্টা করলে দুজনেই সেখানে পড়ে যায়। রাকিব কোনোভাবে ড্রেন থেকে উঠে আসতে পারলেও কামাল পারেনি।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামের রাস্তার পাশে মৃত্যুফাঁদ হয়ে ওঠা নালাগুলোর দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না বলে মনে করেন নগরীর বাসিন্দারা।

বুধবার উদ্ধার অভিযানে আসা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এই নালার গভীরতা ১০-১২ ফুট হলেও আবর্জনায় ঠাসা।

চট্টগ্রাম নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় চট্টগ্রামের নালাগুলো এখন বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রথমত সেখানে নিরাপত্তার বিষয়টি নেই। যদি নালাগুলো পরিষ্কার থাকত সেক্ষেত্রে যে কোনো পয়েন্ট থেকে নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার করা যেত।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সেহেরিন মাহবুদ সাদিয়া (১৯) নালায় পড়ে যান। নিখোঁজ হওয়ার সাড়ে চার ঘণ্টা পর তার মরদেহ পাওয়া যায়।

গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় চশমা খালে পড়ে নিখোঁজ হন সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমেদ।

গত ৩০ জুন শহরের ষোলশহর এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ড্রেনে পড়ে দুই জনের মৃত্যু হয়।

গতবছর নগরীর হালিশহর এলাকায় মহেশখাল খালে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।