আবরার হত্যার রায়: যেসব যুক্তি আসামিপক্ষের|332146|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ২২:৪৩
আবরার হত্যার রায়: যেসব যুক্তি আসামিপক্ষের
নিজস্ব প্রতিবেদক

আবরার হত্যার রায়: যেসব যুক্তি আসামিপক্ষের

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি মিজানুর রহমান মিজান, শামীম বিল্লাহ ও এস এম মাহমুদ সেতুর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফারুখ আহম্মেদ।

দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আসামিদের অনেকে বলেছে, বড় ভাইরা তাদের ডেকে নিয়ে এসেছে। অপরাধের সঙ্গে অনেকের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। কেউ ডাকলে আর গেলে তো সেটি অপরাধ না। এ জন্য কি তাদের ফাঁসি হয়ে যাবে? তাদের হত্যার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। অনেকের সাজার মতো মামলায় কোনো উপাদান ছিল না। কিন্তু সাজা হয়েছে। আমরা এ রায়ে সংক্ষুব্ধ। আশা করি উচ্চ আদালতে খালাস হবে। আমরা ন্যায়বিচার পাব।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন ও মোরশেদ অমর্ত্য ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফিরোজ আলী মন্ডল।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এটি একটি বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড সেটি ঠিক আছে। কিন্তু ৪৬ সাক্ষীর কেউ বলে নাই যে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মারতে দেখেছেন। সাক্ষীরা বলেছেন, তারা শুনেছেন। ফৌজদারি আইনে কারও সাজা নিশ্চিত করতে হলে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করতে হয়। শুধুমাত্র শত্রুর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে কাউকে সাজা দেওয়া ফৌজদারি ও সাক্ষ্য আইন সমর্থন করে না। আমরা এ রায়ে সংক্ষুদ্ধ। উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।’  

রায় শুনতে সকালেই আদালত অঙ্গনে আসেন আসামির স্বজনরা। কারও এসেছিলেন বাবা, মা। তারা ছিলেন উদ্বীগ্ন। রায়ের পর তাদের অনেককে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়। কেউ কেউ রায়ে হতাশা ব্যক্ত করে দাবি করেন তাদের সন্তান নির্দোষ। অনেকেই অঝোর ধারায় কান্নায় ভেঙে পড়েন।

দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির স্বজন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এমন  রায় কল্পনাও করিনি।’

আরেক আসামির স্বজন বলেন, ‘আসামিদের বাবা-মায়ের ফাঁসি চায়নি। তা চাইলে সেটাও হয় তো হতো।’

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মুহতাসিম ফুয়াদের বাবা আবু তাহের বলেন, ‘আমার ছেলের ঘটনার সময় শারীরিকভাবে যেমন উপস্থিত ছিল না, তেমনি মানসিকভাবেও এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ত নেই। তাকে কেন মামলায় সম্পৃক্ত করবে? তার বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষীও দেয়নি। ঘটনার দিন ভোরে উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা যখন যায় তখন সেও ওইখানে যায়। এটুকুই তার সম্পৃক্ততা। আমাদের সবার একটাই দাবি ছিল, মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারে নেওয়া হোক।’

আবরার হত্যার ঘটনার পরদিন তার বাবা বরকতউল্লাহ চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর ইফতি মোশাররফ সকাল, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মোজাহিদুর রহমান, মেহেদী হাসান রবিন, মনিরুজ্জামান মনির, খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর, এ এস এম নাজমুস সাদাত আদালতে দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন।

এক মাসের কম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/ ১০৯/ ১১৪ ও ৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। 

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ৬০  সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত। আসামিদের পক্ষে ছয়জন সাফাই সাক্ষ্য দেন। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর এ মামলার রায়ের জন্য গত ২৮ নভেম্বর ধার্য করেছিলেন বিচারক।

তবে ওই দিন রায় প্রস্তুত না হওয়ায় নতুন করে ৮ ডিসেম্বর রায়ের তারিখ ধার্য হয়। মোট ৭৮ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার বিচারকাজ শেষ হয়। দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুবার এ মামলার বিচারকাজ বন্ধ থাকে।