নিষেধাজ্ঞার বিকল্প কী?|332148|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০
নিষেধাজ্ঞার বিকল্প কী?
মহামারী ঘিরে রাজনীতি
রূপান্তর ডেস্ক

নিষেধাজ্ঞার বিকল্প কী?

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবারও সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটছে বিশ্ব। নতুন করে জারি করা হয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মতো বিধিনিষেধ। বিজ্ঞানীরা বারবারই বলে আসছেন, করোনাভাইরাসের রূপান্তর চলতেই থাকবে। পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন ধরন শনাক্ত হতেই থাকবে। এরপরও বিশ্বকে নিষেধাজ্ঞার বিকল্প উপায় নিয়ে ভাবতে দেখা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর বিধিনিষেধগুলো কি কখনোই শেষ হওয়ার নয়? আলজাজিরার বিশেষ এক প্রতিবেদনে মহামারী পরিস্থিতি অনন্তকাল ধরে চলার নেপথ্যের কারণ শনাক্তের চেষ্টা করা হয়েছে। ভাইরাসবিদ্যা, রোগতত্ত্ব, চিকিৎসানীতি ও অর্থনীতিসংক্রান্ত বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ১আলজাজিরাকে বলছেন, মহামারী অবসানের বিষয়টি চূড়ান্ত অর্থে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।

সম্প্রতি আফ্রিকা অঞ্চলে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশ সেখানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। গত সপ্তাহে জাপান অস্থায়ী বাসিন্দাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। দক্ষ অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবারও সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। হংকং ৩৬টি দেশ থেকে অস্থায়ী বাসিন্দাদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে। বিদেশফেরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ২১ দিনের হোটেল কোয়ারেন্টাইন চালু রেখেছে তারা। মহামারীজুড়েই মেইনল্যান্ড চায়নার সীমান্তে কঠোর কিছু বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। শুধু নিজস্ব নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারেন। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কিছু কোয়ারেন্টাইনমুক্ত ভ্রমণ লেন চালু করার কথা থাকলেও তা বিলম্বিত করা হচ্ছে। সব ভ্রমণকারীর জন্য ১০ দিনের কোয়ারেন্টাইন বিধি পুনর্বহাল করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে প্রচুরসংখ্যক মানুষ টিকা নেওয়ার পরও এসব দেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধের পথকেই বেছে নিয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে ধারণা করা যায়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধনকারী এসব বিধিনিষেধ চক্র কখনোই শেষ হওয়ার নয়। এ চক্রের সমাপ্তি টানতে চাইলে কর্র্তৃপক্ষকে তাদের ধারণা পরিবর্তন করতে হবে এবং ভাইরাসের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা শিখতে হবে।

ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার আগেও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি বড় অংশে ভ্রমণকারীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবর মাসে প্রায় ৯৩ শতাংশ বিমান চলাচল কমে গেছে। এভাবে ঢালাও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সমালোচনা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভাইরাসের বিস্তার যতখানি না ঠেকানো যায়, তার তুলনায় এটি জীবন ও জীবিকাকে অনেক বেশি কঠিন করে তোলে। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ইয়ান ম্যাকে বলেন, মহামারীগুলো প্রকৃতিগতভাবে রাজনৈতিক। প্রতিটি দেশ ভিন্নভাবে পদক্ষেপ নিলে আদৌ স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তিনি মনে করেন, পরবর্তী সময়ে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ভাবনায় নিবিষ্ট না থেকে কীভাবে এর সমাপ্তি টানা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।