শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৪৫|332152|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ২২:৫১
শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৪৫
শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৪৫

শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে চিতলিয়া ইউনিয়নের চিতলিয়া বাজারে (গাজার বাজার) এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

ওই ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চিতলিয়া ইউনিয়নের  ১নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌকিদার (৪৮), ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদ মাদবর (৪০), ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৪৭), সহসভাপতি মকবুল হাওলাদার (৫০), সদস্য হাসেম মাদবর (৪৫), আনোয়ার হাওলাদার (৪০), যুবলীগ নেতা মোশাররফ হাওলাদার (৪৫), আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হাওলাদার (৪৮), আলিম হাওলাদার (৪২), আনোয়ার মাদবর (৫০), আবু গনি চৌকিদার (৬০), আহাম্মদ চৌকিদারসহ (৫০), মাসুদ রানা (২২), কামাল হাওলাদার (২৫), হাবি হাওলাদার (১৯), হবি মাদবর (৬০), ইমান হোসেন মোড়ল (৬০), এসকান্দার সরদার (৭০), জামাল হাওলাদার (১৮), মোক্তার ব্যাপারী (২০), আল আমিন চৌকিদার (২৬), নূর উদ্দিন মাদবর (২৭), নুরুল আমিন ব্যাপারী (৩৫), জাকির হাওলাদার (৩৭)।

তাদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত এমদাদ, রাশেদ, হাসেম, নুরুল আমিন ও জাকিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা প্রেরণ করেছে।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার এবং চিতলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দ্বিতীয় ধাপে ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মাষ্টার হারুন অর রশিদ হাওলাদারের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার রাতে হারুন অর রশিদের সমর্থকদের মারধর করেন সালাম হাওলাদারের সমর্থকেরা। এ নিয়ে বুধবার সকালে দু’পক্ষের সমর্থকরা ককটেল, সেনদা, রানদা, টেঁটা, চাইনিজ কুড়াল, বাঁশের লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হারুন অর রশিদ বলেন, সালাম হাওলাদারের সমর্থক লিটন সরদার, আউয়াল সরদার, সৈয়দ সরদার মঙ্গলবার রাতে গাজার বাজারে এসে আমার সমর্থক রফিক মৃধাকে মারধর করেছে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে নিয়ে মানিক হাওলাদার, ছালাম হাওলাদার হামলার হুমকি দেয়। বুধবার সকালে থেকে সালাম হাওলাদারের সমর্থকেরা আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। তারা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাদের হামলায় আমার অন্তত ২৫ জন সমর্থক আহত হয়েছে। এরমধ্যে তিনজনকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

সালাম হাওলাদার বলেন, আমার ২০ জন সমর্থক আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত আছি। দু’জনকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, চিতলিয়া এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিভিন্ন হাসপাতালে আহত রোগীদের নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।