জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর সামাজিক গণতন্ত্রী নেতা ওলাফ শলৎজ|332169|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ২৩:৩১
জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর সামাজিক গণতন্ত্রী নেতা ওলাফ শলৎজ
অনলাইন ডেস্ক

জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর সামাজিক গণতন্ত্রী নেতা ওলাফ শলৎজ

জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর হলেন সামাজিক গণতন্ত্রী দলের নেতা ওলাফ শলৎজ। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ১৬ বছর পর আঙ্গেলা ম্যার্কেল যুগের অবসান হলো।

নতুন স্পিকার বারবেল বাসের স্বাগত বক্তব্যের পর বুধবার সকালে বার্লিনের পার্লামেন্ট ভবন বুন্ডেশটাগে চলা অধিবেশনে চ্যান্সেলর নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এতে ৭৩৬ জন সাংসদের মধ্যে ৭০৭ জন ভোট দেন। ওলাফ পান ৩৯৫ ভোট। নবম চ্যান্সেলর হতে তার প্রয়োজন ছিল ৩৬৯ ভোট।

দেড় ঘণ্টার অধিবেশন শেষে নবনির্বাচিত চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বেলভিউ প্যালেসে জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে নতুন চ্যান্সেলর হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়া ও নতুন সরকারে ১৬ জন মন্ত্রী নিয়োগে প্রেসিডেন্টের সম্মতি নেন তিনি। এরপর বিকেলের পার্লামেন্ট অধিবেশনে মন্ত্রীরা শপথ নেন।

জার্মানিতে জোট সরকার গঠন নতুন না হলেও এই প্রথম সামাজিক গণতান্ত্রিক দল, পরিবেশবাদী সবুজ দল ও লিবারেল গণতান্ত্রিক দল একসঙ্গে জোট বাঁধে। দেশটিতে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন রঙের প্রতীক রয়েছে। জোটবদ্ধ এ তিন দলের প্রতীক লাল, সবুজ ও হলুদ। সে জন্যই এটিকে ট্রাফিক লাইট জোট বলা হচ্ছে।

বার্লিনে সংবাদ সম্মেলনে নতুন জোট সরকারের নেতারা সরকারের রূপরেখার ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জার্মানির ২০তম নির্বাচনের পর দীর্ঘ ১০ সপ্তাহ দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে। পরে এই তিন দল জোটবদ্ধভাবে আগামী চার বছর সরকার চালাতে একমত হয়। এর আগে নতুন জোট সরকারভুক্ত তিন দলই দলীয় সম্মেলন করে দলের সদস্যদের সম্মতি নেয়।

আগামী চার বছরের জন্য তিনটি দলের প্রায় ৩০০ রাজনীতিক ও বিশেষজ্ঞ মিলে ১৭৭ পৃষ্ঠার ভবিষ্যৎ রূপরেখার দলিল তৈরি করেছেন। দলগুলোর প্রধানেরা দলিলটিতে স্বাক্ষর করার পর আজ নতুন সরকার গঠিত হয়।

নবগঠিত জোট সরকারের রূপরেখায় নাগরিক সুবিধাসমূহে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন: ন্যূনতম মজুরি, পেনশন বৃদ্ধি, শিশু ও তরুণদের আরও বেশি অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীদের গর্ভপাতবিষয়ক বৈষম্যমূলক আইন বাতিল, অভিবাসীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আইন আরও সহজ করার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম ও কিন্ডারগার্টেনে চাকরিজীবীদের নতুন পে–স্কেলের কথা বলা হয়েছে।

নতুন জোট সরকারের তিনটি দল ১৬টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিয়েছে। সামাজিক গণতান্ত্রিক দল সাতটি, পরিবেশবাদী সবুজ দল পাঁচটি ও লিবারেল গণতান্ত্রিক দল চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছে।

সামাজিক গণতন্ত্রী দলের নেতা ওলাফ শলৎজ আঙ্গেলা ম্যার্কেলের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। ৬৩ বছর বয়স্ক ওলাফ নিদারসাক্সেন প্রদেশের ওসানাব্রুক শহরে ১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তবে বেশির ভাগ সময় কেটেছে বন্দর শহর হামবুর্গে। ওলাফ হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন।

একসময় ওলাফ হামবুর্গের মেয়র ছিলেন। ২০০২ সালে সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারের সময় ছিলেন সামাজিক গণতন্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদক। এর আগে ম্যার্কেল সরকারে শ্রম ও সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সাল থেকে জোট সরকারের অর্থমন্ত্রী ও সহকারী চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামাজিক গণতান্ত্রিক দল থেকে ওলাফ চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে জার্মানির চ্যান্সেলর হলেন। এর আগে দলটি থেকে উইলি ব্র্যান্ড, হেলমুট শ্মিড ও শ্রোয়েডার চ্যান্সেলর হন।