হলে তারকাবহুল ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’|332170|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০
হলে তারকাবহুল ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’
মাসিদ রণ

হলে তারকাবহুল ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’

আগামীকাল দেশের ৭টি সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে মেধাবী নির্মাতা নুরুল আলম আতিকের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’। এতে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল, আশনা হাবিব ভাবনা, জ্যোতিকা জ্যোতি, লায়লা হাসান, আশীষ খন্দকার, ইলোরা গওহর, দিলরুবা দোয়েল, স্বাগতা, দীপক সুমন, শিল্পি সরকার অপু, জয়রাজ, অশোক ব্যাপারীর মতো একঝাঁক গুণী অভিনয়শিল্পী। সিনেমাটির প্রিমিয়ার শো হচ্ছে আজ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে। ছবি সংশ্লিষ্ট সবাই এখন শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত। এত এত দেশি-বিদেশি কনটেন্টের ভিড়ে দর্শক টিকিট কেটে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ কেন দেখতে যাবেন, জানতে চাইলে নির্মাতা নুরুল আলম আতিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই অধ্যায় নিয়ে অনেক সিনেমা হওয়া প্রয়োজন। তবে যে সিনেমাগুলো হয়েছে তার বেশিরভাগই একই ধরনের গল্প নিয়ে নির্মিত। সেদিক থেকে আমার ছবিটা ব্যতিক্রম। যারা মুক্তিযুদ্ধকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চান তাদের কাছে ছবিটি ভালো লাগবে। আর যদি সিনেম্যাটিক এক্সপেরিয়েন্সের কথা বলি তাহলে বলব, আমরা যতটা যতœ নিয়ে ছবির গল্প ও শ্যুটিং করেছি, ততটা যত্ন নিয়েই এর পোস্ট প্রোডাকশন করেছি। ছবিটির সাউন্ড ও সংগীত শরীর মন দিয়ে উপভোগ করবেন দর্শক।’

মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ আর বর্তমান বাংলাদেশের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তারমধ্যে আমাদের সিনেমার বাজেট একটা বড় সমস্যা। এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ছবিটিতে মুক্তিযুদ্ধের সেই আবহ কীভাবে তৈরি করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সত্যি এটা এই সময়ে খুবই দুরূহ কাজ। তাই আমাদের অনেকগুলো লোকেশনে গিয়ে কাজ করতে হয়েছে। ছবির গল্প মূলত সৈয়দপুর বন্দিশালাকে ঘিরে। সেই আমেজ দিতে আমরা ময়মনসিংহের গৌরীপুরের একটি স্কুল খুঁজে পাই। সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট এখন অচল। তাই সেখানে শ্যুটিং করতে পেরেছি। একইসঙ্গে পেট্রোবাংলা সিনেমা হলের পরিবেশ পেতে আমাদের যেতে হয়েছে কুষ্টিয়া। সব মিলিয়ে দর্শকের চোখে মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়ের চিত্রই ফুটে উঠবে বলে আমার বিশ^াস। সবাই সপরিবারে ছবিটি দেখলে আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।’  

পা-ুলিপি কারখানা প্রযোজিত ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ছবিটি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পায়। এ সিনেমার অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। তিনি বলেন, ‘ছবিটি নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। এর প্রথম কারণ, নির্মাতা নুরুল আলম আতিক। তিনি চাইলেও একটি খারাপ সিনেমা বানিয়ে ফেলতে পারবেন না। সিনেমা নিয়ে তার প্যাশনের জায়গা এতখানি। তা ছাড়া প্রথমবার ছবিটির গল্প শুনেই আমি ভীষণ আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি। কারণ এটি মুক্তিযুদ্ধকে আমাদের সামনে একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ছবিটির সঙ্গে আমি যুক্ত একেবারে শুরু থেকেই। তখন আমার প্রথম সিনেমা অনিমেষ আইচ পরিচালিত ‘ভয়ংকর সুন্দর’-এর শ্যুটিং করছিলাম। ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’র গল্প পড়ে একাধিক চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছিলাম। তবে মনে মনে ঠিক করেছিলাম, সুযোগ হলে পদ্ম চরিত্রেই অভিনয় করব। কারণ, ‘ভয়ংকর সুন্দর’-এর নয়নতারার পর এমন একটি চরিত্রে পর্দায় আসতে চাইছিলাম, যেটি আমাকে একেবারেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করবে। আমি সৌভাগ্যবান যে সেই চরিত্রের জন্য আমাকে চূড়ান্ত করেন নির্মাতা ও প্রযোজক। নির্মাতা আতিক বলেছেন, এই ছবিতে পদ্মই একমাত্র মুক্তিযোদ্ধার চরিত্র। ছবিতে হয়তো তাকে যুদ্ধ করতে দেখা যাবে না, কিন্তু কেন পদ্মকে মুক্তিযোদ্ধা বলা হয়েছে, সেটি দর্শক স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারবেন। এখন সিনেমার ভাষা বদলেছে। দর্শকের রুচিরও নিশ্চয়ই পরিবর্তন হয়েছে। তারা কোন সিনেমাটি ভালো তা হয়তো এখন বুঝেই প্রেক্ষাগৃহে যাবেন।’’

ছবির আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দিপালী হয়েছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ মুক্তি নিয়ে আমার অনুভূতি একেবারেই আলাদা, কারণ এটি মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা। আর তা মুক্তি পাচ্ছে দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির বিজয়ের মাসে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ছবিটির যতটুকু দেখেছি তাতে মনে হয়েছে খুব ভালো একটি কাজ হয়েছে। দর্শকের এ ধরনের ছবি হলে এসে দেখা উচিত। যারা ভাবেন, মুক্তিযুদ্ধের ছবি আর কী দেখব? কিংবা যারা সিনেমা হলে যেতেই চান না- তাদের বলব, আপনারা সিনেমা হলে আসার অভ্যাস তৈরি করুন। বর্তমান সময়টা প্রতিযোগিতামূলক। জীবনের যুদ্ধে আমাদের প্রতিনিয়ত ছুটতে হয়। সিনেমা আপনাদের সেই মানসিক স্ট্রেস অনেকটাই কমাতে পারে। আর ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ নিয়ে বলব, এটি মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা হলেও সচরাচর যে ধরনের গল্প দেখানো হয় তা থেকে আলাদা। অনেকগুলো জনপ্রিয় মুখ অভিনয় করেছেন ছবিটিতে। এ ছবির প্রতিটি চরিত্র আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, ছবিটি দর্শকের পছন্দ হবে।’

ছবিটি দেখা যাবে ঢাকায় স্টার সিনেপ্লেক্স-এর সব শাখা, যমুনা ব্লকবাস্টার, নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপ ও খুলনার লিবার্টি সিনেমা হলে।