দুই বছরের শিশু ফিরে পাচ্ছে মায়ের কোল|332228|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০
দুই বছরের শিশু ফিরে পাচ্ছে মায়ের কোল
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই বছরের শিশু ফিরে পাচ্ছে মায়ের কোল

উচ্চ আদালতের আদেশে দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে ফিরে পাচ্ছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফের পুত্রবধূ মাধবী আক্তার নিলা। এই সন্তানকে পেতে চার মাস আগে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন তিনি।

গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। মাধবী আক্তার নিলা দেশ রূপান্তরকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে মেয়েকে আমার কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দিয়েছে আদালত। আমার পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় নিজেই শুনানি করেছি। বক্তব্য শুনে উচ্চ আদালত আমার সন্তান আমার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আদালত উভয়পক্ষের কথা শুনে পুরো বিষয় তদারকি করতে একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকেও নির্দেশনা দিয়েছে।’

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে আমার মাধ্যমেই মায়ের কাছে সন্তান হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া শিগগিরই মামলাটি নিষ্পত্তি করারও নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।’

আদালতে রিটের আগে মাধবী আক্তার নিলা রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় স্বামী মোয়াজ আরিফ, শ্বশুর হাসান আরিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। সেই মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এরই মধ্যে গত ৪ ডিসেম্বর পাঁচ মাস বয়সী আরেক শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর রূপনগর থানায় আরেকটি মামলা করেন নিলা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বাসায় ঢুকে সাবেক স্বামী মোয়াজ আরিফ (৪৩) ও অজ্ঞাত কয়েকজন তাকে এবং তার পাঁচ মাস বয়সী শিশুকে হত্যার চেষ্টা চালায়। মামলার বিবরণীতে তিনি বলেন, গত ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে তার সাবেক স্বামী মোয়াজ আরিফ বাসার নিচে এসে নিরাপত্তারক্ষী মনিরের মাধ্যমে ফোন দিয়ে জানায় যে, তার সঙ্গে ডাক্তার ও নার্স আছে, তারা উপরে আসতে চায়। তাদেরকে আসার অনুমতি দিলে মোয়াজ আরিফের সঙ্গে থাকা তাদের গাড়িচালক তাজুল ইসলাম, দুজন অজ্ঞাত নারী ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। তারা ছোট বাচ্চাটিকে নিতে চায়। দিতে না চাইলে মোয়াজ শিশুটিকে জোর করে নিয়ে সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া এক নারীর কোলে দেয়। তখন তারা শিশুটিকে বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। বাধা দিলে  মোয়াজ  নিলার মাথায় ও নাকে গাড়ির চাবি দিয়ে আঘাত করে। কিল-ঘুসি মেরে রক্তাক্ত করে। মোয়াজ অন্যদের সহায়তায় হত্যার উদ্দেশ্যে রশি দিয়ে আমার গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করে। আমার বাসার দারোয়ান তাদের এই কাজে সহায়তা করেছে। তারা খুন জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

নিলার অভিযোগ, চার বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী মোয়াজ আরিফ, শ্বশুর হাসান আরিফ, শাশুড়ি পারভীন আরিফ ও ননদ উম্মেহানি তার ওপর নির্যাতন করতেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জেল খাটিয়েছেন। তার দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে আটকে রেখে নির্যাতন করেছেন। নবজাতক দ্বিতীয় কন্যাসন্তান নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।

মামলার আরজিতে তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে আমার পেটে লাথি মেরে তিন মাসের একটা বাচ্চা মেরে ফেলেছেন, যা আমাকে ডিঅ্যান্ডসি করাতে হয়েছে। আমাকে নির্যাতন করে চুল কেটে দিয়েছেন। আমার গাড়িসহ সবকিছু আটকে রেখেছেন। আমার সিম, মোবাইল ফোন ও ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছেন। আমাকে ও আমার দ্বিতীয় কন্যাসন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।’

রূপনগর থানার ওসি আরিফুর রহমান সর্দার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।’

এ বিষয়ে জানতে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মোয়াজ আরিফের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

গত ২৮ এপ্রিল নিলার বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন মোয়াজ আরিফ। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা নিলা এক মাস চার দিন জেল খাটেন। কারাগারেই নিলার দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। গত ৭ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান।

এ মামলার বিষয়ে নিলা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি যাতে তাদের পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুলতে না পারি, সেজন্যই তারা কৌশলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে আমার শ্বশুরের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক দিনের মধ্যেই গ্রেপ্তার করান। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে না নিয়েই কারাগারে পাঠান।’

নিলার বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে মোয়াজ অভিযোগ করেন, ‘২০১৮ সালে মাধবী আক্তার ওরফে নিলা ইসরাফিলকে বিয়ে করেন। তারপর জানতে পারেন তিনি নিলার তৃতীয় স্বামী। বিয়ের পর নিলার বদমেজাজী চেহারা ফুটে ওঠে। প্রতিনিয়ত টাকার জন্য সে চাপ দিতে থাকে। না দিলে শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এমনকি সে আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকেও অপমান-অপদস্ত করে। এমন পরিস্থিতিতে ৮১ বছরের বৃদ্ধ বাবা ও ৭০ বছর বয়সী মা ধানমণ্ডির বাসায় চলে যান। এতে আমার ওপর নিলার নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বাসার গৃহকর্মীদেরও অসংখ্যবার মেরে রক্তাক্ত করে সে। তার টাকার চাহিদা পূরণ করতে না পারলে দুই বছর দুই মাস বয়সী কন্যাকেও মেরে আহত করে।’