নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ স্মারক ভাস্কর্যের উদ্বোধন|335198|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ২৩:০৬
নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ স্মারক ভাস্কর্যের উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিবেদক

নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ স্মারক ভাস্কর্যের উদ্বোধন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ পূর্তিতে বাংলা একাডেমিতে স্মারক ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে এই স্মারক ভাস্কর্যের শুভ উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, ভাস্কর্যটির শিল্পী জাহানারা পারভীন, বাংলা একাডেমির ফেলো, জীবনসদস্য, সদস্য এবং একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৬) ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনার শতবর্ষ পূরণ হলো চলতি বছর। ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের কোনো এক রাতে এক বৈঠকে রচিত হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের বিপুল প্রভাববিস্তারী এই কবিতা। নজরুল তখন মাত্র ২২ বছরের যুবক। সেনাবাহিনীর কর্ম শেষে কলকাতায় ফিরেছেন দুই বছরও হয়নি।

শাসক-শোষক আর ক্ষমতাবানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রাণাবেগময় দ্রোহের কথাই উচ্চ কণ্ঠে ব্যক্ত হয়েছে এই কবিতায়। ফলে তা বিপুলভাবে পাঠকচিত্তকে আকৃষ্ট করেছে। সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় ১৯২২-এর ৬ জানুয়ারি প্রকাশের সমসময়েই কবিতাটি বের হয় মাসিক মোসলেম ভারত-এ (এটি ১৯২১-এর কার্তিক সংখ্যা হলেও বের হয় জানুয়ারির প্রথমার্ধে); কবিতাটির জনপ্রিয়তার কারণে বিজলী পত্রিকার ওই সংখ্যা দুবার ছাপতে হয়। এ ছাড়া কবিতাটি পুনর্মুদ্রিত হয় ওই জানুয়ারিতেই প্রবাসীর মাঘ সংখ্যায় এবং সাধনার বৈশাখ সংখ্যায় (এপ্রিল ১৯২২)।

‘বিদ্রোহী’র এই তুমুল জনপ্রিয়তার কারণ, সমকালীন মুক্তি-আকাঙ্ক্ষী মানুষের প্রতিবাদী আবেগকে তা যথার্থভাবে ধারণ করেছিল। আর এতে প্রতিফলিত হয়েছিল নজরুলের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিভার সর্বময় দীপ্তি।

বাংলা কবিতার পাঠকদের কাছে এ ভাষা আর এ কণ্ঠস্বর নতুন; কালের স্পন্দনকে ধারণ করেও তা কালান্তরী। ফলে বাংলা কবিতার ভাষা বদলেও এ কবিতা পালন করে এক অমোঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

কবি ও কবিতা সম্পর্কিত তথ্য: সৈয়দ আজিজুল হক।