মুরাদের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ|338198|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ জানুয়ারি, ২০২২ ১৯:৪৮
মুরাদের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুরাদের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ

সমালোচনার মুখে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদ এ আদেশ দেন। ধানমণ্ডি থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার (নন-জিআরও) কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক ফুয়াদ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার জিডিটি তদন্তের অনুমতির জন্য মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠান তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার উপ পরিদর্শক রাজিব হাসান।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান ডা. মুরাদের স্ত্রী চিকিৎসক জাহানারা এহসান। জরুরি সেবা নম্বরের ফোন পেয়ে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ তাদের বাসায় যায়। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মুরাদ বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

সেদিন বিকেলে স্বামীর বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেন ডা. জাহানারা। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, বিবাদী আমার স্বামী ডা. মুরাদ। তিনি বর্তমান সরকারের সংসদ সদস্য এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কারণে-অকারণে আমাকে ও সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। হত্যার হুমকিও দিচ্ছেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ও তার স্ত্রীর লাইসেন্সকৃত তিনটি অস্ত্র জমা নিয়েছে ডিএমপির ধানমন্ডি থানা-পুলিশ।

রবিবার ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ডা. মুরাদের স্ত্রী তার বিরুদ্ধে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে একটি জিডি করেছেন, তাই তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ডা. মুরাদের নামে লাইসেন্স করা অস্ত্রগুলো থানায় জমা দিতে বলি। থানার নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি গতকাল (শনিবার) এসে দুটি অস্ত্র জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া ডা. মুরাদের স্ত্রীকেও তার লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা বললে তিনিও শনিবার অস্ত্র জমা দিয়ে গেছেন।

স্বামী-স্ত্রী দুজনে তিনটি অস্ত্র জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে একটি পিস্তল ও দুইটি শটগান।

ওসি বলেন, জিডিতে নিরাপত্তাজনিত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তাই আমরা অস্ত্রগুলো জমা নিয়েছি। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের অস্ত্রগুলো থানায় জমা থাকবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমান সম্পর্কে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে গত নভেম্বরের শেষের দিকে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন মুরাদ হাসান। তখন তিনি তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ওই বিতর্ক-সমালোচনার মধ্যেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ফোনালাপের আরেকটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একজন চিত্রনায়িকার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন, একই সঙ্গে তাঁকে হুমকিও দেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এরপর গত ৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। দলীয় পদও কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর। পরে ৯ ডিসেম্বর রাতে কানাডার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন মুরাদ। কিন্তু কানাডায় ঢুকতে না পেরে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি। এরপর আর প্রকাশ্যে আসেননি জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী উপজেলা) আসনের সাংসদ মুরাদ হাসান।