এমপিকে ‘চেক’ দেয়ার অভিযোগকারী সেই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা|338425|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ জানুয়ারি, ২০২২ ২২:১১
এমপিকে ‘চেক’ দেয়ার অভিযোগকারী সেই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রাম ব্যুরো

এমপিকে ‘চেক’ দেয়ার অভিযোগকারী সেই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে চট্টগ্রামের এক আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্যের নামে ১৫ লাখ টাকার চেক দেয়ার অভিযোগ করা সেই মনোনয়ন বঞ্চিত এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসানের আদালতে যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সোমবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করা হয়।  

মামলার বাদী হোসেন কবীর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আসামি মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি।

গত ৬ জানুয়ারি ‘এ্যাডিশনাল পি পি কামাল উদ্দীন’ নামের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ লাখ টাকার চেক দেওয়া সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেওয়া হয়।

তিনি পোস্টে লিখেছেন, হোসেন কবীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মোসলেম উদ্দিন আহমদের নাম দিয়ে তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকার একটি চেক নিয়েছিলেন।

কামাল লেখেন, আমাকে মনোনয়ন দেয়া দূরে থাক, কেন্দ্রে আমার নামটি পর্যন্ত পাঠায়নি। এখন আমি আমার চেক ও টাকা ফেরত চাই। অন্যথায় আমি বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হব এবং ফৌজদারি মামলা করতে বাধ্য হব।

পোস্টে সোনালী ব্যাংক কোর্ট হিল শাখার একটি চেকের ছবিও দেন কামাল উদ্দীন। ‘মোসলেম উদ্দিন আহমেদ’ নামে ইস্যু করা চেকটির নিচে কামাল উদ্দিনের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে ওই চেকে কোনো তারিখ লেখা ছিল না।

ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে, বিভিন্নজনের শেয়ার থেকে বিষয়টি আমাদেরও নজরে আসে। তবে, পরদিন যুবলীগ নেতা কামাল উদ্দিনের ফেইসবুক আইডিতে ওই পোস্টটি আর পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তিনি পোস্টটি হাইড, ডিলিট বা কাস্টোমাইজ অপশন থেকে অনলি মি করে রাখতে পারেন। 

এরপর শনিবার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি খোলা চিঠিও লেখেন তিনি।

সোমবার করা মামলার বাদী হোসেন কবীর বলেন, ‘কামাল উদ্দীনকে আমি চিনি। কিন্তু গত ৫-৭ বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। এর মধ্যে কখনো দেখা বা কথাও হয়নি। তাহলে সে যে চেক দেওয়ার অভিযোগ করছে, ওই ঘটনা কোথায় ঘটেছে? সে প্রার্থী হতে চায় সেটাও কখনো বলেনি।

তিনি বলেন, মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করে এমপি সাহেবের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়। নিশ্চয় এর নেপথ্যে অন্য কেউ আছে। না হলে এত দুঃসাহস কী করে হয়?

হোসেন কবীরের আইনজীবী মির্জা কছির উদ্দিন জানান, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা তদন্ত করে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে, যুবলীগ নেতা ও ও চট্টগ্রাম জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আইনজীবী হিসেবে আইনগতভাবে তা মোকাবিলা করব।

তিনি বলেন, ওই পোস্ট দেওয়ার পর থেকে আমাকে লোকজন টেলিফোনে হুমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হোসেন কবীর উপজেলার যুগ্ম সম্পাদক। তিনি বলেছেন মনোনয়ন নিয়ে দেবেন। তিনিই বলেছেন, লিডারের (সাংসদ) নামে চেক দিতে।

মামলার বাদী এজাহারে বলেছেন, সাংসদ মোসলেম উদ্দিন আহমদের সম্মতি নিয়ে তিনি মামলাটি করেছেন। এ মামলায় সাংসদকে সাক্ষীও করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমার চরিত্র হননের জন্য কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব করছে। কামাল উদ্দীন নামের ওই লোকের সাথে আমার কোনো কথাবার্তাই হয়নি।

আরও পড়ুন: ‘এমপিকে ১৫ লাখ টাকার চেক দিয়েও’ মনোনয়নবঞ্চিত যুবলীগ নেতা