ভারতে ধর্মসভা থেকে ‘মুসলিম নির্মূলের’ ডাক দেওয়া জিতেন্দ্র গ্রেপ্তার|339129|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি, ২০২২ ১০:১৬
ভারতে ধর্মসভা থেকে ‘মুসলিম নির্মূলের’ ডাক দেওয়া জিতেন্দ্র গ্রেপ্তার
অনলাইন ডেস্ক

ভারতে ধর্মসভা থেকে ‘মুসলিম নির্মূলের’ ডাক দেওয়া জিতেন্দ্র গ্রেপ্তার

জিতেন্দ্র উত্তরপ্রদেশের শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের সাবেক প্রধান। পরে ইসলাম ছেড়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি

শেষ পর্যন্ত হরিদ্বার ধর্মসভায় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার প্রেক্ষিতে তৎপরতা দেখাল ভারতের উত্তরাখণ্ড পুলিশ। ধর্মসভা থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাসূচক বক্তব্য ও নির্মূলের ডাক দেওয়ায় ওয়াসিম রিজভি ওরফে জিতেন্দ্র ত্যাগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জিতেন্দ্র উত্তরপ্রদেশের শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের সাবেক প্রধান। পরে ইসলাম ছেড়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি।

হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, গত ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের বেদ নিকেতন ধামে ধর্ম সংসদের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উসকানিমূলক বক্তব্য পেশ করে সহিংসতার ডাক দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন উপস্থিত সাধুরা। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন জিতেন্দ্র ত্যাগী। এই উসকানিমূলক বক্তব্য পেশের ঘটনায় এফআইআর হলে তাতে সর্বপ্রথম নাম ছিল তার।

এফআইআরে যতি নরসিংহনন্দ ও সাগর সিন্ধু মহারাজের মতো প্রভাবশালী ধর্মগুরুর নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযোগে নাম রয়েছে ধর্মদাস মহারাজ, সন্ন্যাসিনী অন্নপূর্ণার নামও। যদিও তাদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হলেন যতি নরসিংহনন্দ। সংখ্যালঘু বিরোধী হিসেবে পরিচিত নরসিংহানন্দ এমনিতেই বিতর্কিত এক ব্যক্তিত্ব। প্রথম থেকেই এই মামলায় তার নাম যুক্ত করার দাবি উঠছিল বিভিন্ন মহল থেকে। পরে অভিযোগে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নরসিংহানন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাসূচক বক্তব্য পেশ করার ওই ঘটনায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল বিভিন্ন মহলেই। ধর্ম সংসদের নামে সহিংসতা ছড়ানোর প্ররোচনা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন প্রাক্তন সামরিক কর্তারা। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক ব্যক্তির নামে এফআইআর দায়ের করলেও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। এই আবহে দুই দিন আগেই উত্তরাখণ্ড সরকারকে নোটিশ জারি করেছিল শীর্ষ আদালত। আর সেই নোটিশ জারি হতেই এবার তৎপরতা দেখা গেল পুলিশের মধ্যে।