ইউক্রেনে ব্যাপক সাইবার হামলা|339207|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
ইউক্রেনে ব্যাপক সাইবার হামলা
রূপান্তর ডেস্ক

ইউক্রেনে ব্যাপক সাইবার হামলা

পরাশক্তিধর রাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই ইউক্রেনে চালানো হয়েছে ব্যাপক মাত্রায় সাইবার হামলা। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্র, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছে, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এমনিতেই ইউক্রেন সরকার নিজেদের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দল ও জনগণের চাপের মুখে আছে। এই সাইবার হামলার পর ইউক্রেনের নেতৃত্ব নতুন সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানায়নি ইউক্রেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনেকেই এই হামলার জন্য রাশিয়ার হ্যাকারদের দায়ী করছেন। সম্প্রতি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নিরাপত্তা বৈঠক হয়েছে। এমন বৈঠকের পরই ইউক্রেনে সাইবার হামলাকে ওই বৈঠকের অকার্যকারিতাই প্রমাণ করছে কিনা, এমন প্রশ্নও করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

সন্দেহজনক রাশিয়ান হ্যাকাররা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের হোম পেজে লিখে রেখে গেছে, ‘ইউক্রেনিয়ানরা... তোমাদের সব তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। আরও খারাপের কথা ভেবে ভয় পাও। এটাই তোমার অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ।’ এমন বার্তার সঙ্গে ইউক্রেনের পতাকা ও মানচিত্রকেও ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। বার্তায় ইউক্রেনিয়ান ইনসার্জেন্ট আর্মির (ইউপিএ) কথাও উল্লেখ করা হয়। এই আর্মি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।

দ্য গার্ডিয়ানকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ওলেগ নিকোলেঙ্কো বলেন, ‘এমন ব্যাপক পরিসরে সাইবার হামলার কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য অনেক সরকারি এজেন্সির ওয়েবসাইট আপাতত বন্ধ হয়ে আছে। আমাদের বিশেষজ্ঞরা গোটা আইটি ব্যবস্থাকে ফের সচল করতে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সাইবার পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক জোসেপ বোরেল এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা এবং সাইবার ইউনিট মিলিতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে যে কীভাবে কিয়েভকে এই মুহূর্তে সহায়তা করা যায়। ইউক্রেনকে সহায়তা করতে আমরা আমাদের যাবতীয় সক্ষমতাকে কাজে লাগাব। দুঃখজনকভাবে আমরা জানতাম, এমন কিছু একটা ঘটতে পারে। এই ঘটনার পেছনে কারা আছে তা বলা মুশকিল। আমি কাউকে দোষারোপ করতে পারি না, যেহেতু আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু আমরা আন্দাজ করতে পারি কারা এটা করেছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে রাশিয়ার হ্যাকাররা ইউক্রেনের নেটওয়ার্কে ঘড়ঃচবঃুধ ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছিল। এতে দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সংবাদপত্রসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিপুল ক্ষতি হয়েছিল।