ভারত-চীন ধারাবাহিক ব্যর্থ বৈঠক|339209|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
ভারত-চীন ধারাবাহিক ব্যর্থ বৈঠক
রূপান্তর ডেস্ক

ভারত-চীন ধারাবাহিক ব্যর্থ বৈঠক

বিরোধপূর্ণ লাদাখ সীমান্ত নিয়ে একটা সমাধানে পৌঁছাতে বৈঠকে বসে আবার ব্যর্থ হয়েছে ভারত-চীন। সেনাপর্যায়ের ১৪তম বৈঠকেও বিরোধ নিয়ে কোনো সমাধান পেল না দেশ দুটি। সমাধানের কোনো পথ না পেলেও অন্তত একটি বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। তা হলো; এগোতে হবে একসঙ্গে। আবার সমাধানের আশা এখনো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিগগিরই আবার বৈঠকে বসবে দুই দেশ। গত বুধবার যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি ছিল; চীন গোগরা-হট স্প্রিং এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। তবে এতে রাজি হয়নি চীন। আবার দৌলত বেগ ওল্ডি সেক্টরে দেপসাং বালজ, ডেমচক সেক্টরে চার্ডিং নুল্লাহ জাংশন থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি করানো যায়নি চীনকে। অর্থাৎ সেনা মোতায়েন নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন হচ্ছে না দুই দেশের। এর আগেও একই ইস্যুতে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ায়নি। ফলে যত দিন যাচ্ছে, ততই এই লাদাখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈরী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আর এই বৈরিতায় ধীরে ধীরে ভুটান ও মালদ্বীপের মতো রাষ্ট্রও যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

কূটনৈতিক ভাষায় এর অর্থ দাঁড়ায় বৈঠক থেকে ইতিবাচক কোনো ফল আসেনি। আলোচনা এগিয়ে স্রেফ এ পর্যন্ত একমত হয়েছে দুই দেশ যে, সমাধানে পৌঁছানোর জন্য কাজ চালিয়ে যাবে দুই পক্ষই। কিন্তু আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার রাজনীতির মাঝে চীন ও ভারত উভয়েই যার যার সীমান্তবর্তী অবস্থানে সামরিক স্থাপনা বানিয়ে চলছে জোরদার। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, চীন তার সীমান্তের পাশর্^বর্তী এলাকাগুলোয় ছোট ছোট সামরিক ইউনিট মোতায়েন করেছে। নতুন নতুন গ্রাম তৈরি করা হচ্ছে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য। অন্যদিকে ভারতও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ফোর্স যাতে লাদাখ সীমান্তে নির্বিঘেœ আসতে পারে তাই রেল ও সড়কব্যবস্থার উন্নয়ন করছে, যা চীনের জন্য চিন্তার।

২০২০ সালের মে মাস থেকে মূলত নতুন করে সীমান্তে উত্তেজনা ও সংঘাতের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন থেকেই একে অপরের দিকে চোখ রাঙাচ্ছে দুই দেশের সেনারা। ওই সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর বৈঠকে বসেছিলেন দুই দেশের সেনা কর্মকর্তারা। তখনো সীমান্তের বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি দুই দেশ। বছর পাঁচেক আগে সিকিম ও ভুটানের সীমানাঘেঁষা ডোকলামে ভারত ও চীনের সৈন্যরা মুখোমুখি ছিল বাহাত্তর দিন।