শিশুমনের ভয় তাড়াতে|339240|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
শিশুমনের ভয় তাড়াতে
শ্যামল আতিক

শিশুমনের ভয় তাড়াতে

শিশুদের মধ্যে নানা ধরনের ভয় কাজ করে। অন্ধকারের ভয়, মা-বাবা থেকে বিচ্ছেদ ভয়, বজ্রপাতের শব্দ, আগুনের ভয়, বিশেষ কোনো প্রাণী, যেমন টিকটিকি, তেলাপোকা, মাকড়সা, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদির ভয়, অপরিচিত ব্যক্তির প্রতি ভয়, উচ্চতা ভীতি, জিন-ভূতের ভয় ইত্যাদি। বাস্তবতা হচ্ছে, যত সতর্ক থাকুন না কেন, শিশুকে ভয় থেকে দূরে রাখতে পারবেন না। নানা সময়ে সে ভয়ের সম্মুখীন হবেই। তাই এই ভয়কে কীভাবে মোকাবিলা এবং প্রশমন করতে হবে জানালেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্যারেন্টিং বিষয়ক গবেষক শ্যামল আতিক

  খুব ছোট শিশুর (যে শিশুকে বুঝাতে পারবেন না) ক্ষেত্রে আপনার করণীয় হচ্ছে যখনই শিশু ভয় পাবে, তাকে কোলে তুলে নেবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে থাকবেন, যাতে তার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি না হয়।

  শিশু ভয় পেলে আপনাকে অবশ্যই স্বাভাবিক থাকতে হবে। আপনার চেহারায় যদি স্বাভাবিক ছাপ ফুটে ওঠে, তাহলে কিছুটা হলেও ভয় দূর  হবে। চেষ্টা করুন শিশুর মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে। এমন কিছু করুন অথবা বলুন যাতে শিশুর আবেগীয় অবস্থায় দ্রুত শান্ত বা হাল্কা হয়।

  আপনি নিজে ভয় পেলেও শিশুর সামনে সাহসের ভান করুন। আপনার ভয়বোধ দৃশ্যমান হলে শিশুর মধ্যেও তা সঞ্চারিত হতে পারে। কুকুর দেখলে আমরা যদি ভয় পেয়ে দৌড় দিই, শিশুর মনে তখন কুকুর সম্পর্কে ভয়ের ধারণা জন্ম নেয়। আবার কুকুরের সামনে আমরা যদি স্বাভাবিক থাকতে পারি, শিশুও কুকুর দেখলে স্বাভাবিক থাকবে।

  নিরাপত্তা নিয়ে অতি সতর্কতাও শিশুমনে ভয়ের জন্ম দেয়। যেমন- জলাশয়ের কাছে গেলে যদি চিৎকার দিয়ে উঠি, সেটা শুনে শিশু ভয় পেয়ে যায় এবং তার মধ্যে জলাশয়ের প্রতি ভীতি জন্ম নেয়। এরপর শিশুকে পানিতে নামানো যায় না। এমনকি ১০ থেকে ১২ বছরের শিশুকেও সাঁতার শেখানো কষ্টকর হয়ে যায়।

  ‘ভয় পেয়ো না বাবা, ভয়ের কিছু হয়নি, সব ঠিক হয়ে যাবে’ এই কথাগুলো বলতে যাবেন না। এতে শিশু মনে করবে তার মনোজগতে ঘটে যাওয়া ভাবনাগুলোকে আপনি উপেক্ষা করছেন অথবা এই ধরনের আবেগ ঠিক নয়। এছাড়াও এসব কথা বলার মধ্য দিয়ে আপনি ভিন্নভাবে শিশুকে ভয়ের বার্তাই দিচ্ছেন।

  শিশুর ভয় নিয়ে হাসাহাসি অথবা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করবেন না, এতে করে শিশুর ভয় আরও বাড়বে এবং আত্মবিশ্বাস কমে যাবে।

  জিন-ভূত-ডাকাত-বাঘের গল্প শুনিয়ে শিশুকে ঘুম পাড়ানো বা খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। এমনকি নিছক আনন্দ দেওয়ার জন্যও করবেন না। ভয় দেখানো, ভয়ের গল্প বলা এবং ভয়ের দৃশ্য দেখানো এই বিষয়গুলো শিশুমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশুকে হরর মুভি, দুর্ঘটনার দৃশ্য, ভয়ংকর চিত্র দেখানো থেকে বিরত থাকবেন।

  ভয়ের বিষয়কে দৃশ্যমান করে ফেলা। যেমন- আপনার শিশু যদি বলে বিছানার নিচে ভূত আছে, আপনার কাজ হলো সুযোগ বুঝে বিছানার নিচের অংশ দেখিয়ে দেওয়া। কয়েকদিন দেখালে শিশুর এ ধরনের ভয় এমনিতেই কেটে যায়।

  ভয়কে এড়িয়ে যাবেন না, অস্বীকার করবেন না। শিশু আপনাকে বলল এই রুমে সে ভয় পাচ্ছে। যদি সঙ্গে সঙ্গে তাকে অন্য রুমে নিয়ে যান, তাহলে শিশুর ভয় আরও গভীর হবে। অপরিচিত মানুষকে দেখলে যদি শিশু ভয় পায়, ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে শিশুকে পজেটিভ বলুন। শিশুর সামনেই ঐ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলুন।

  শিশুর সাহস বাড়ানোর জন্য কিছু চর্চা করতে পারেন। ঘুমানোর আগে শিশুর কানের কাছে ‘আমি সাহসী, আমি পারি’ এই ধরনের ইতিবাচক কথা বারবার বললে, শিশুর অবচেতন মনে তা গেঁথে যাবে। একটা সময় আসবে শিশুর সাহস দেখে আপনি নিজেই বিস্মিত হবেন।