টি-সেলেই সমাধান!|339594|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
টি-সেলেই সমাধান!
রূপান্তর ডেস্ক

টি-সেলেই সমাধান!

করোনার ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বিস্তারের সঙ্গে নতুন করে অ্যান্টিবডির প্রশ্নটি ফের আসছে। কিছু দেশ ইতিমধ্যেই বুস্টার ডোজের ক্যাম্পেইন চালু করেছে সাম্প্রতিক করোনার বিস্তার ঠেকাতে। একটাই আশা, টিকাদানের মাধ্যমে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি বাড়ানো যাতে ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানবশরীরের কোষগুলো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখানে একটি সমস্যা দেখছেন।

এখন যখন কাউকে করোনার বুস্টার দেওয়া হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে তার শরীরে আগের দুই ডোজ টিকার অ্যান্টিবডি ৭৫ শতাংশ থেকে নেমে ২৫ শতাংশে চলে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে বুস্টার দিলেই যে করোনাকে প্রতিরোধ করা যাবে, এমন কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। অথচ যারাই এখন বুস্টার ডোজ দিচ্ছেন, তারা বলছেন এই ডোজ দিলে শরীরে অ্যান্টিবডি পূর্ণমাত্রায় ফিরে আসবে।

অ্যান্টিবডিগুলো আমাদের জটিল এবং আন্তঃসম্পর্কিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ মাত্র। আর এ কারণেই একদল বিজ্ঞানী ফের টি-সেলের দিকে নজর দিতে বলছেন। যখন শরীর সংক্রমিত হয় একটি ভাইরাসের মাধ্যমে তখন শরীরে সাদা রক্তকণিকার জন্ম হয় লিম্ফোসাইটস নামে। বি-সেল শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। আর টি-সেল বি-সেলকে অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সহায়তা করে। অথবা ভাইরাসকে ধ্বংসকারী সেল হিসেবেও কাজ করে টি-সেল। কিছু টি ও বি-সেল দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি কোষে রূপান্তরিত হয়। একই ভাইরাস দ্বারা শরীর যখন ফের আক্রান্ত হয় তখন ওই স্মৃতি কোষ কার্যকরী হয়।

ভাইরাসের বাইরের অংশকে চিহ্নিত করে বি-সেল। সেলটি এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করে যা ওই ভাইরাসটিকে রুদ্ধ করে দেয়। আর ভাইরাসটি তৈরি হওয়ার জন্য যে অ্যামিনো এসিড থাকে তাকে চিহ্নিত করে টি-সেল। প্রত্যেকটি ভাইরাসেরই ভেতর ও বাইরের বৈচিত্র্য অনেক। ভাইরাসের বৈচিত্র্য ভিত্তিতে একজন ব্যক্তির ইমিউন সিস্টেম বিভিন্ন ধরনের টি ও বি-সেল উৎপাদন করতে পারে।

ওমিক্রন সম্পর্কে যে তথ্যগুলো এখন সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হচ্ছে তার মধ্যে এর বাইরের অংশের স্পাইক প্রোটিনের বিষয়টিই বেশি আসছে। এই স্পাইক প্রোটিন অনেকবার রূপান্তরিত এবং ভাইরাসকে আবদ্ধ করার যে ক্ষমতা থাকে অ্যান্টিবডির তা এড়িয়ে যেতে সক্ষম ওই স্পাইকগুলো। টি-সেল যেহেতু ভাইরাসের অন্য অংশগুলো নিয়ে কাজ করে, তাই ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে এর ভূমিকাও বেশি দেখা যায়। মানবশরীরে দীর্ঘমেয়াদে অ্যান্টিবডি না থাকলেও টি-সেল থেকে যায়।

ভাইরাল ইনফেকশনের ক্ষেত্রে টি-সেল খুব সংকটপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে টি-সেলের শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া শুধু প্রয়োজনই নয়, পাশাপাশি অ্যান্টিবডি তৈরিতে বি-সেলকেও সাহায্য করে। তথ্য-প্রমাণ বলছে যে, কভিড-১৯ নিরাময়ে টি-সেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, টি-সেল মানবশরীরে বিবিধ প্রকার ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রতিক্রিয়াশীল টি-সেল তৈরির মাধ্যমে কভিড-১৯ ঝুঁকিকে কমিয়ে আনতে পারে।

এখন পর্যন্ত যে টিকাগুলো তৈরি হয়েছে করোনা প্রতিরোধের জন্য, এগুলোর অধিকাংশই করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এই টিকাগুলো অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম। কিন্তু অ্যান্টিবডির মাত্রা ক্রমেই কমে যেতে থাকায়, টি-সেলের কার্যকারিতা ও এর গুরুত্ব নিয়ে ফের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, টি-সেল ভ্যাকসিনগুলোর দিকে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত বিজ্ঞানীদের।