চ্যাম্পিয়নকে ছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু|339611|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
চ্যাম্পিয়নকে ছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু
ক্রীড়া ডেস্ক

চ্যাম্পিয়নকে ছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু

দ্বিতীয় বার ভিসা বাতিলের বিরুদ্ধে মেলবোর্নের ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছিলেন নোভাক জকোভিচ। সেই আবেদন গতকাল খারিজ করেছে আদালত। ফলে আর অস্ট্রেলিয়াতে থাকতে পারবেন না সার্ব তারকা। সেই সঙ্গে বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেল। আজ শুরু হচ্ছে বছরের প্রথম গ্র্যান্ডসø্যাম।

মেলবোর্নের ফেডারেল আদালতের নির্দেশের পরে জকোভিচকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। আজ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রথম ম্যাচ খেলার কথা ছিল জকোভিচের। আদালতের সিদ্ধান্তে ‘হতাশা’ প্রকাশ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার ভিসা বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার যে আবেদন আমি করেছিলাম, আদালত তা খারিজ করে দেওয়ায় আমি সত্যিই হতাশ। এর অর্থ হচ্ছে, আমি অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারছি না, এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অংশ নিতে পারছি না। আমি আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এই দেশ থেকে আমার চলে যাওয়ার ব্যাপারে যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করব।’ 

৬ জানুয়ারি মেলবোর্নের টুলামারিন বিমানবন্দরে নামার পর করোনা প্রতিষেধক টিকা গ্রহণের কাগজ না থাকার কারণে জকোভিচকে আটক করে অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন কর্র্তৃপক্ষ। তার ভিসাও বাতিল করা হয়েছিল। বিমানবন্দর থেকে জকেভিচকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি হোটেলে রাখা হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ার আদালতের দ্বারস্থ হন জকোভিচ। গত সোমবার অস্ট্রেলিয়ার আদালত, চিকিৎসাগত ক্ষেত্রে ছাড় সংক্রান্ত যে ভিসার আবেদন জকোভিচ করেছিলেন তা সম্পূর্ণ বৈধ বলে রায় দেয়। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলার অনুমতি দেওয়া হোক বলেও আদেশ দেয়। এরপরই অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী অ্যালেক্স হক জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে জকোভিচের ভিসা বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি। দ্বিতীয় বারের মতো ভিসা বাতিলও হয়। এরপর মেলবোর্নের ফেডারেল আদালতে আবার ভিসা বাতিলের বিরুদ্ধে আবেদন করেন জকোভিচ। গতকাল সেটাই খারিজ হয়েছে।

রবিবারের শুনানিতে তিন বিচারকের প্যানেল জানিয়ে দেয়, ‘জকোভিচ যে আবেদন করেছেন তা অযৌক্তিক। অস্ট্রেলিয়ার সার্বিক কভিড পরিস্থিতিতে সেই আবেদন কোনো মতেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই তার আবেদন খারিজ করে দেওয়া হলো।’ অভিবাসনমন্ত্রী অ্যালেক্স হক বলছেন, ‘টিকা না নেওয়া জকোভিচকে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে দিলে সেটি টিকাবিরোধী মানসিকতাকে উৎসাহিত করতে পারে, পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ জনগণের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিতে পারে।’ হকের সই করা বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এবার জকোভিচ আপিল না করলে কিংবা আপিল করেও না জিতলে আগামী তিন বছরে অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা পাবেন না!’

আগামী তিন বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ভিসা না পেলে তিন বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনও খেলতে পারবেন না জকোভিচ। নয়বারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ীর জন্য এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর হতে পারে না। অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে সুরক্ষিত আর সীমান্তকে শক্তিশালী করতে হবে। সব ভুলে এখন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন উপভোগ করার সময়।’