বাড়ছে শীতজনিত রোগী|339634|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
বাড়ছে শীতজনিত রোগী
হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

বাড়ছে শীতজনিত রোগী

উত্তরের জেলা দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে কয়েক দিন তাপমাত্রা বাড়তির দিকে থাকলেও হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় আবারও জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীতের কারণে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। রোগীদের বাড়তি চাপের কারণে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের ভারত সীমান্তবর্তী হিলিতে কিছুদিন তাপমাত্রা বাড়তি থাকলেও তিন দিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় এখন বেড়েছে ঠান্ডা। সকালে কুয়াশায় ঢাকা থাকছে পুরো এলাকা। সঙ্গে হিমালয়ের পাদদেশের হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। শীতজনিত রোগী বাড়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন রোগীরা। প্রতিদিন ৩০-৪০ জন এ-সংক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আবার একই পরিমাণ রোগী আউটডোরে চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরছে।

শিশুকে নিয়ে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে আসা গৃহবধূ হাসি আকতার বলেন, ‘দুই-তিন দিন আগে হিলিতে বৃষ্টিপাত হওয়ায় আবারও ঠান্ডা পড়েছে। কখনো গরম কখনো ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ছোট বাচ্চাদের ডায়রিয়া হচ্ছে। আমার বাচ্চারও ডায়রিয়া হয়েছে, ঘন ঘন পাতলা পায়খানা করছে, শরীর একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছে না। স্থানীয়ভাবে ওষুধ নিয়ে খাইয়ে কোনো কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।’

গৃহবধূ আলো আকতার বলেন, ‘হঠাৎ করে বাচ্চার ঠান্ডা-জ্বর-সর্দি-কাশি দেখা দিয়েছে। এ কারণে বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। ডাক্তার দেখানো হয়েছে। ওষুধ লিখে দিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’

গৃহবধূ হাসিনা বানু বলেন, কয়েক দিন ধরে কখনো গরম কখনো ঠান্ডা। যার কারণে ছোট-বড় সবার ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। আমার নিজেরও ডায়রিয়া হয়েছে। শরীর একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে আর চলতে পারছি না। বাধ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।

হাসপাতালে ভর্তি নুর আলম বলেন, শীতের মধ্যে কাজে বের হওয়ার কারণে ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া পাতলা পায়খানা হচ্ছে। আমরা তো দিনমজুর মানুষ, খুব অসুবিধার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছি। 

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব হাসান বলেন, বর্তমানে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে; বিশেষ করে ৩-৪ দিন ধরেই শীত অনেকটা বেশি। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বয়স্ক ও শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। তারা বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। রোগী বাড়ার কারণে আমাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ডা. রাকিব পরামর্শ দেন, শীত থেকে সাবধানে থাকতে হবে। ভিটামিন সিসমৃদ্ধ ও শীতকালীন নানা ধরনের সবজি খেতে হবে। বয়স্ক ও শিশুরা যেন ঠান্ডা পানি পান না করে।