ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে সংক্রমণ|339658|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে সংক্রমণ
শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে সংক্রমণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শনাক্ত হয়েছে দ্বিগুণের বেশি রোগী। মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে সংক্রমণের হার। গতকাল রবিবার গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে করোনা রোগী। শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ না থাকায় অনেকে বুঝতে পারছেন না। প্রথম ঢেউয়ের মতো আলোচনাও হচ্ছে না। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে প্রশাসন কঠোর এবং জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব না দিলে করোনার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় গত শনিবার যে প্রতিবেদন দেয় তাতে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় মহানগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় নতুন করে ২৩৯ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণের হার ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ। কিন্তু গতকাল রবিবার সকালে দেওয়া প্রতিবেদনে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন রোগী শনাক্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫০ জনে। শনাক্তের হার একলাফে উঠেছে ২৭ দশমিক ৭৩ শতাংশে। এক দিনের ব্যবধানে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৯৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ১ হাজার ৩৩৫ জন।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. এম ইলিয়াস চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের ১৩টি ল্যাবে ১ হাজার ৯৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৫৫০ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। শনাক্তদের মধ্যে মহানগর এলাকার ৩৬২ ও বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে ১৮৮ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে হাটহাজারীতে, ৪১ জন। এ ছাড়া রাঙ্গুনিয়ায় ২৭, ফটিকছড়িতে ২০, পটিয়ায় ১৯, বোয়ালখালীতে ১৭, সাতকানিয়ায় ১২, সীতাকুণ্ডে ১০, চন্দনাইশে ৯, লোহাগাড়ায় ৮, রাউজানে ৬, আনোয়ারায় ৫, মিরসরাইয়ে ৪, সন্দ্বীপ ও কর্ণফুলীতে দুজন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, শ^াসকষ্টের মতো উপসর্গ না থাকায় বেশিরভাগ মানুষ নমুনা পরীক্ষা করছে না। সবাই পরীক্ষা করালে শনাক্তের হার আরও বেড়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সরফরাজ খান বাবুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে চট্টগ্রামে এখন ঘরে ঘরে করোনা রোগী। আমি নিজেই গত তিন দিনে ১৫ রোগীর চিকিৎসা দিয়েছি। এসব রোগীর শ্বাসকষ্ট নেই। কিন্তু শরীর ব্যথা, জ¦র, কাশির মতোর উপসর্গ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় জরুরি ভিত্তিতে করোনা ইউনিট প্রস্তুতের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক অনুষ্ঠান সীমিত ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেন ডা. সরফরাজ খান।

এদিকে সরকারের করোনা বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে চট্টগ্রামে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা। গতকাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাইমা ইসলাম ও হিমাদ্রি খিসার নেতৃত্বে পৃথক দল নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করেন তারা।