৪ দিনে আরও ২২ জনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত|339698|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
৪ দিনে আরও ২২ জনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক

৪ দিনে আরও ২২ জনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত

দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ বেড়েই চলছে। গত চার দিনে আরও ২২ জনের শরীরে নতুন করে ধরনটি শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রবিবার জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জার (জিআইএসএআইডি) ওয়েবসাইটে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে এ ওয়েবসাইটে আক্রান্তদের ব্যাপারে আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এ নিয়ে গত এক মাসে দেশে ৫৫ জনের শরীরে ধরনটি শনাক্ত হলো। এর আগে গত বুধবার তিনজনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর দিয়েছিল সংস্থাটি। ফলে কম সময়ের ব্যবধানে সর্বাধিকসংখ্যক মানুষের শরীরে ওমিক্রন শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম।

গত ১১ ডিসেম্বর দেশে প্রথম দুই নারী ক্রিকেটারের শরীরে ওমিক্রন শনাক্তের খবর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ওই নারী ক্রিকেট দল জিম্বাবুয়ে সফর করে দেশে ফিরেছিল। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এরপর ২৭ ডিসেম্বর একজনের ও ২৮ ডিসেম্বর চারজনের শরীরে ওমিক্রন ধরা পড়ে। ৩১ ডিসেম্বর তিনজনের শরীরে ওমিক্রন ধরা পড়ে। এরপর গত ৬ জানুয়ারি এক দিনেই ১০ জনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হয়। ৭ জানুয়ারি এক এবং ১০ জানুয়ারি নয়জনের শরীরে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের তথ্য আসে জিআইএসএআইডির ওয়েবসাইটে। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ২২ জন ছাড়া বাকিরা সবাই ঢাকা ও ঢাকার বাইরের একটি জেলার বাসিন্দা। এদের বেশিরভাগই বিদেশফেরত ও তাদের সংস্পর্শে আসা আত্মীয়স্বজন। অবশ্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলেছে, আক্রান্তদের মধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

৫ মাস পর রোগী ৫ হাজার ছাড়াল : দেশে সংক্রমণ বেড়ে প্রায় পাঁচ মাস পর আবার দৈনিক রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা) নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ২২২ এবং মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। এর আগে গত বছর ২৪ আগস্ট এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৫ হাজার ২৪৯ জন। এর আগের দিন গত শনিবার ৩ হাজার ৪৪৭ জন শনাক্ত এবং মৃত্যু হয়েছিল ৭ জনের। গতকাল এক দিনে রোগী বেড়েছে ১ হাজার ৭৭৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৭১১ এবং মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৪৪ জনের। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ও ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছে।

অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, ১৪৯ দিন পর নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হারও ১৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। গত এক দিনে দেশে ২৯ হাজার ৩০৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশে। এর আগে গত বছর ১৯ আগস্ট পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার এর চেয়ে বেশি ছিল ১৭ দশমিক শূন্য ৯১ শতাংশ। গত শনিবার এ হার ছিল ১৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার ৪২৫টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে যে ৫ হাজার ২২২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগরসহ ঢাকা জেলাতেই শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৩ জন। আর বাকি ১ হাজার ২১৯ জন রোগী দেশের অন্যান্য জেলার।

সাত দিনে রোগী বেড়েছে ২২২ শতাংশ : গতকাল নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, দেশে এক সপ্তাহে ২২২ শতাংশ শনাক্ত বেড়েছে। দেশে গত বছর নভেম্বরের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত সংক্রমণ কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ক্রমাগত বাড়তে শুরু করে। জানুয়ারিতে এসে আগের বছরের চিত্র অনেকটাই বদলে যায়। অনেকেই ধারণা করছেন, করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে দেশে সংক্রমণ বাড়ছে। কিন্তু এটি বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ দিয়ে নিশ্চিত তথ্য নয়। ধরে নিতে হবে দেশে এখনো ডেল্টা প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। নতুন করে ঘটছে ওমিক্রনের সংক্রমণ। সারা বিশ্বে যেমন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে সরিয়ে ওমিক্রন জায়গা দখল করেছে, ধীরে ধীরে হয়তো বাংলাদেশেও এমনটি হবে।

অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ওমিক্রনে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়, ফুসফুস কম আক্রান্ত হয় এসব ভেবে আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। ডেল্টার সংক্রমণের সময় আমরা যতটা সচেতন ছিলাম, যতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছি, এখনো সেভাবেই চলতে হবে।

কওমি শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিকরা টিকার আওতায় আসছেন : অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, কওমি মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী এবং পরিবহন শ্রমিকদের টিকার আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে স্কুলের কোমলমতি শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যেই এ টিকা কার্যক্রম চলছে। এর পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসাতেও আমাদের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এ শিক্ষার্থীদের আমরা টিকা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই, তাদের টিকা নিশ্চিত করতে চাই। আমরা কওমি মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট সবাইকে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের কাজটি যেন শেষ হয়, আমরা শতভাগ টিকা দিয়ে দিতে পারব।

তিনি বলেন, যেসব পরিবহন শ্রমিক আছেন যারা আমাদের জীবনযাত্রাকে সহজ করার জন্য কাজ করছেন তাদেরও আমরা টিকা দিতে চাই। কাজেই এ সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তারা যদি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কাছে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তাদের টিকা দেওয়ার কাজটি আমাদের জন্য সহজ হয়ে যায়।