শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা, শতাধিক আহত|339700|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা, শতাধিক আহত
আবদুল্লা আল মাসুদ, শাবিপ্রবি

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা, শতাধিক আহত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটার পাশাপাশি রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে পুলিশ। গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিক্ষার্থীদের ওপর এই হামলা চালায় পুলিশ। এ সময় সংঘর্ষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ শতাধিক আহত হয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার পর রাত পৌনে ৯টার দিকে জরুরি সিন্ডিকেট মিটিং ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হলত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাকে নিয়ে আন্দোলনের সূত্রপাত সেই বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ (লিজা) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তার জায়গায় নতুন প্রাধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় আন্দোলনকারী দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য সব বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। এসময় ছাত্রলীগের একাংশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। রাত ১২টার দিকে বাইরে থেকে অন্তত ৫০০ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এসে জড়ো হন। সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে  উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থী, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা পৌনে ৩টার দিকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য তার কার্যালয় থেকে বের হয়ে ডিনদের এক সভায় যাওয়ার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়লে তার সঙ্গে থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে আশ্রয় নেন। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ওই ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক সমিতির নেতারা ও প্রক্টরিয়াল বডি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে যান। এ সময় তারা উপাচার্যকে বাসায় নিয়ে যেতে চাইলে আন্দোলনকারীরা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তখন শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে প্রবেশ করে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। এর জেরে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করেন। তখন তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে কিছু সময়ের জন্য পুলিশ পিছু হটলেও একটু পরই সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর পুলিশ আইসিটি ভবনে প্রবেশ করে উপাচার্যকে উদ্ধার করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বোঝাতে গিয়েছিলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় পুলিশ তাদের পেছনে অবস্থান নিয়েছিল। শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালান। এতে তিনিসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। তাই পুলিশ জানমাল রক্ষার্থে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদিন বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের এই অতর্কিত হামলা শাবিপ্রবির ইতিহাসে লেখা থাকবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আলমগীর কবির বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে এখন বিধ্বস্ত আছি। এই মুহূর্তে আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারছি না।’