ইভিএমে ধীরগতি জটিলতা|339701|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০
ইভিএমে ধীরগতি জটিলতা
নিজস্ব প্রতিবেদক ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ইভিএমে ধীরগতি জটিলতা

সকাল সকাল ভোট দিয়ে বাড়ি চলে যাবেন ফাতেমা আক্তার। এমন প্রত্যাশা নিয়ে সকাল ৮টার দিকে সফুরা খাতুন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন তিনি। দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে পারেননি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে লাইন ছেড়ে গাছের ছায়ায় বসে পড়েন। ভোট দেওয়ার আশা নিয়ে সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা বসেছিলেন।

সকাল ৭টার দিকে ভোট দিতে আসেন শিউলি। ৮টায় লাইনে দাঁড়ান। বেলা ১২টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি তিনি। অভিযোগ করে শিউলি সাংবাদিকদের বলেন, ইভিএম ‘স্লো’। এজন্য ভোট দিতে দেরি হচ্ছে।

শুধু ফাতেমা আক্তার ও শিউলিই নন, এমন অনেকেরই ভোট দিতে দেরি হয়েছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে আঙুলের ছাপ মিলছিল না বলে ভোটারদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। কেউ কেউ ভোট না দিয়ে ফিরে গেছেন।

গতকাল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয় ১৯২টি কেন্দ্রে। কোনো কেন্দ্রে তেমন কোনো গোলযোগ হয়নি। দুই প্রধান প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তৈমূর আলম খন্দকার ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে ইভিএম পদ্ধতি কিছুটা জটিলতা তৈরি করেছে বলে দাবি করেন তারা। সকাল পৌনে ১১টায় আলী আহম্মদ চুনকা বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর আইভী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, ইভিএমে কাস্টিং জটিলতায় ভোট স্লো হচ্ছে। ৭ নম্বর কদমতলী ওয়ার্ডে ইভিএম  মেশিন নষ্ট হওয়ার খবরও জানান তিনি।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শহরের মাসদাইরে নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভোটদান শেষে তৈমূর ইভিএমে ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ চলছে বলে অভিযোগ করেন।

ইভিএমে ভোটগ্রহণে ধীরগতির যে অভিযোগ তার সত্যতা পাওয়া গেছে কয়েকটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হলি উইলস মডেল স্কুলের কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাছুম বিল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনেক  ভোটার ইভিএম পদ্ধতির সঙ্গে অভ্যস্ত নয় বলেই এই ধীরগতি। এমনও আছে সব ঠিক থাকলে ৫০ সেকেণ্ডের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে ভোটদান। তিনি বলেন, দেখা যাচ্ছে বয়স্ক একজন ভোটার এলেন, তার আঙুলের ছাপ মেলাতে নানা চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে দেরি হয়ে যাচ্ছে।

শহরের আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে মনোয়ারা বেগম নামে একজন ভোটার ইভিএম জটিলতার মুখে পড়ে ভোটই দিতে পারেননি। হেক্সিসল, ভ্যাসলিন লাগিয়ে ছাপ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েও তার ভোট নেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শামছুল হকও ইভিএমে ধীরগতির কথা জানান।

বন্দর ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৪৫ ভোটের মধ্যে দুপুর ১টা পর্যন্ত মাত্র ৫৯৩ ভোট পড়ে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের চিফ মেট্রোপলিটন নতুন ভবন কেন্দ্রে  ভোট শুরুর সাড়ে চার ঘণ্টা পর এক হাজার ৪০ ভোট পড়ে। ওই কেন্দ্রে ৩২৫১  ভোট। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আইয়ুব আলী ভুইয়া অবশ্য বলেন, তার  কেন্দ্রে  ইভিএম জটিলতায় পড়তে হয়নি।

তবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের নতুন ভবন কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে আনোয়ার  হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইভিএমে ভোট দেওয়া আমার কাছে সহজ মনে হয়েছে।’

তবে পঞ্চাশোর্ধ্ব ভোটার হোসনে আরা আলী আহম্মদ চুনকা বালিকা বিদ্যালয়ে ভোট দিতে এসে বলেন, ‘আমি এগুলো বুঝি না। আমার ভোট সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দিয়েছেন।’

১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারীদের ভোটগ্রহণে দেরি এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে শেষ বেলায় এসে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন প্রিসাইডিং অফিসার নাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একজন নারী ভোটার ২০ মিনিটও সময় লাগাচ্ছে। আমি অসহায়। নারীদের অনেক চেষ্টা করে লাইনে রাখা যায় না। তারা একেবারেই বোঝে না। তারা চায় আমরা তাদের ভোট দিয়ে দিই। আমাদের ডাকেন ভোট কীভাবে দেবেন দেখিয়ে দেওয়ার জন্য।’