করোনা মহামারিতে শীর্ষ ১০ ধনীর সম্পদ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে!|339731|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ১২:৫২
করোনা মহামারিতে শীর্ষ ১০ ধনীর সম্পদ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে!
অনলাইন ডেস্ক

করোনা মহামারিতে শীর্ষ ১০ ধনীর সম্পদ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে!

করোনা মহামারির সময়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনীদের সম্পদ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে আরও বহু সাধারণ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে নেমে গেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক দাতব্য ও ত্রাণসংস্থা অক্সফামের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সম্পদের এই বৈষম্য ও অসমতাকে ‘অর্থনৈতিক সহিংসতা’ বলে আখ্যায়িত করেছে অক্সফাম। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার দাবি, দারিদ্র, স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ক্ষুধা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে প্রতিদিন ২১ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

কিন্তু করোনা মহামারির শুরু থেকে অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী ব্যক্তির সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। দাতব্য সংস্থার উদ্ধৃত ফোর্বসের পরিসংখ্যান অনুসারে বিশ্বের এই ১০ জন ধনী ব্যক্তি হলেন- ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস, বার্নার্ড আর্নল্ট এবং তার পরিবার, বিল গেটস, ল্যারি এলিসন, ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রিন, মার্ক জুকারবার্গ, স্টিভ বলমার এবং ওয়ারেন বাফেট।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের আগে বৈশ্বিক অসমতার ওপর এই রিপোর্টটি সামনে আনলো সংস্থাটি।

এই বৈঠকে সারা বিশ্ব থেকে করপোরেট ও রাজনৈতিক নেতা, সেলিব্রেটি, অর্থনীতিবিদ ও সাংবাদিকসহ হাজারও প্রতিনিধি অংশ নিয়ে থাকেন। চলতি সপ্তাহেই অনলাইনের মাধ্যমে এই বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকটি সরাসরি উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় সেটি অনলাইনে আয়োজন করা হচ্ছে।

আসন্ন বৈঠকের প্রথম সপ্তাহে চলমান করোনা মহামারির ভবিষ্যত গতিপ্রকৃতি, টিকা সাম্য এবং জ্বালানি স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা হবে।

অক্সফাম জানিয়েছে, মহামারির শুরু থেকে ধনীদের সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর প্রতিদিন সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ গড়ে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে সম্পদ বৃদ্ধির হারে ধনীদের মধ্যেও ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদ করোনা মহামারির মধ্যে বেড়েছে ১ হাজার শতাংশেরও বেশি। আরেক শীর্ষ ধনী বিল গেটসের সম্পদ বেড়েছে ৩০ শতাংশ হারে।

অক্সফামের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারি বিশ্বব্যাপী ১৬০ মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্যের মধ্যে নিমজ্জিত করেছে। এছাড়া অসমতা ও বৈষম্য বেড়ে যাওয়ায় জাতিগত অ-শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু এবং নারীরা দারিদ্র্যের শিকার হয়েছেন তুলনামূলক বেশি।

আর তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা হ্রাসে আরও অর্থায়ন বাড়িয়ে কর সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে অক্সফাম।

অক্সফাম জিবি-এর প্রধান নির্বাহী ড্যানি শ্রীস্কন্দরাজাহ বলেছেন, অক্সফাম প্রতি বছর এই রিপোর্ট দাভোসের সঙ্গে মিল রেখে অর্থনৈতিক, ব্যবসায়িক এবং রাজনৈতিক অভিজাতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য তৈরি করে।

তিনি বলেন, ‘এই বছর, যা ঘটছে তা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এই মহামারী চলাকালীন প্রায় প্রতিদিনই একজন নতুন শতকোটিপতি তৈরি হয়েছে। এদিকে লকডাউন, নিম্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কম আন্তর্জাতিক পর্যটনের কারণে বিশ্বের জনসংখ্যার ৯৯% মানুষ দূর্দশায় দিনাতিপাত করেছেন। আরও ১৬ কোটি মানুষ গরীব হয়ে গেছেন’।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কিছু একটা গভীর ত্রুটি রয়েছে’।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা অক্সফামের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার অভাব, ক্ষুধা, লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে প্রতি চার সেকেন্ডে একজনের মৃত্যু হচ্ছে।