উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে গণস্বাক্ষর সংগ্রহে শাবি শিক্ষার্থীরা|339763|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ১৬:২২
উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে গণস্বাক্ষর সংগ্রহে শাবি শিক্ষার্থীরা
শাবি প্রতিনিধি

উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে গণস্বাক্ষর সংগ্রহে শাবি শিক্ষার্থীরা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদকে বরখাস্ত করে নতুন উপাচার্য নিয়োগ চেয়ে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকেল ৩টা থেকে এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়। সংগৃহীত স্বাক্ষর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বরাবর পাঠানো হবে।

এর আগে বেলা সোয়া ২টার দিকে উপাচার্য কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এরপর একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা দেন শিক্ষার্থীরা।

দুপুর ১টার দিকে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া দুপুর ১২টার পর তারা হলগুলোর প্রশাসনিক কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।

এদিন সকাল থেকে ক্যাম্পাস কার্যত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উপাচার্যের বাসভবন ঘিরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নিলেও ক্যাম্পাসের অন্যত্র তাদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

উল্লেখ্য, অসদাচরণের অভিযোগ এনে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শাবি শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা।

এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তারা।

এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় আন্দোলনরতদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং শেষে রেজিস্ট্রার ভবন থেকে বের হলে উপাচার্যের পিছু নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় উপাচার্য ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে আশ্রয় নিলে শিক্ষার্থীরা সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

বিকেল ৫টার দিকে উপাচার্যকে উদ্ধারে শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জের পাশাপাশি তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

এছাড়া পুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ শিক্ষার্থীরা আবারও জড়ো হলে পরে ছাত্রলীগ তাদের ধাওয়া করে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সার্বিক তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।