শাবিপ্রবি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ব্যারিকেড|339799|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ২১:৩৬
শাবিপ্রবি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ব্যারিকেড
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাবিপ্রবি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ব্যারিকেড

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ঘিরে সোমবার রাত পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে পুলিশ, সিআরটি ও র‌্যাব সদস্যরা টহল দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান করছে পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম। সেখানে জলকামান রাখা হয়েছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশ প্রতিহত করতে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। তারাা বালির বস্তা, ইট ও কাঠ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করেন। 

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়া সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে পুলিশের টহল গাড়ি দেখা যায়। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা গেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে নয়াবাজার এলাকায় র‌্যাব সদস্যরা রয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা জানান।  

এর আগে সোমবার দিনভর কয়েক শ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের পদত্যাগ এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সর্বশেষ রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। 

উপাচার্য ভবন ঘিরে বিপুল পুলিশের উপস্থিতিও রয়েছে সেখানে।  

এ বিষয়ে সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডিসি আজবাহার আলি শেখ গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন আমরাও শান্তিপূর্ণ আছি। তারা নিজেদের অবস্থান ছেড়ে দিলে আমরাও আমাদের অবস্থান থেকে সরে যাব। 

সোমবার সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের কার্যালয়, প্রশাসনিক ভবন ও প্রত্যেকটি একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা সোয়া ২টার দিকে উপাচার্য কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এরপর একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা দেন তারা।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া দুপুর ১২টার পর তারা হলগুলোর প্রশাসনিক কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।

উল্লেখ্য, অসদাচরণের অভিযোগ এনে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শাবি শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা।

এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তারা।

এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় আন্দোলনরতদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং শেষে রেজিস্ট্রার ভবন থেকে বের হলে উপাচার্যের পিছু নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় উপাচার্য ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে আশ্রয় নিলে শিক্ষার্থীরা সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

বিকেল ৫টার দিকে উপাচার্যকে উদ্ধারে শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জের পাশাপাশি তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

এ ছাড়া পুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ শিক্ষার্থীরা আবারও জড়ো হলে পরে ছাত্রলীগ তাদের ধাওয়া করে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সার্বিক তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।